এমবাপ্পের পেনাল্টিতে প্যারাগুয়ের বিদায়, কোয়ার্টারে মরক্কোর অপেক্ষায় ফ্রান্স 

ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে লেখা হলো আরেকটি নাটকীয় অধ্যায়। জার্মানিকে পেনাল্টিতে হারিয়ে আসা প্যারাগুয়ে এবার ফ্রান্সকে থামাতে পারলো না— কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলো ফ্রান্স। পরের রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো। 

প্রথমার্ধ: গরম আবহাওয়া, ঠান্ডা খেলা

ফিলাডেলফিয়ার গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দুই দলই শুরুতে ছিল ছন্দহীন। প্রথম ১৫ মিনিট কার্যত নিষ্প্রভ ছিল— গরমের প্রভাব স্পষ্ট। চুয়ামেনির ইনজুরির কারণে তার জায়গায় একাদশে এসেছিলেন মানু কোনে, যা ফ্রান্সের মাঝমাঠে কিছুটা ভারসাম্যের সমস্যা তৈরি করে।

এমবাপ্পে একটি সুন্দর কার্লড শট নিলেন— প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্দো গিল দারুণ সেভে ঠেকিয়ে দিলেন। ফ্রান্স বলের দখল রাখলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। বিরতিতে গোলশূন্য। 

দ্বিতীয়ার্ধ: ভিএআর পেনাল্টি, এমবাপ্পের ফিনিশ

দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্স আরও সংগঠিত হলো। মাঠে নামেন— বার্কোলার বদলে ডেজিরে দুয়ে। সেই দুয়েই বদলে দিলেন ম্যাচের ভাগ্য। বক্সের ভেতরে ডিয়েগো গোমেজ তাকে ফেলে দিলেন— রেফারি প্রথমে দেখলেন না, কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।

স্পটকিকে এলেন এমবাপ্পে। প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়রা ঝাঁকে ঝাঁকে পেনাল্টি স্পটে এসে মানসিক চাপ দেওয়ার চেষ্টা করলেন, গোলরক্ষক গিলও নানা কৌশলে এমবাপ্পেকে বিচলিত করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বিশ্বকাপে ১৯ গোলের এই স্ট্রাইকার বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না— ডানদিকের নিচের কোণে শীতল ফিনিশে বল জড়ালেন জালে। গিল দিক আন্দাজ করতেই পারলেন না। 

বিতর্কিত রেফারিং, দুর্দান্ত প্যারাগুয়ে

দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে একটাই আলোচনা— রেফারি ইলগিজ তানতাশেভের পারফরম্যান্স। মাতিয়াস গালার্সা বারবার ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের— কুন্দে ও ওলিসেকে— ফাউল করে পার পেয়ে গেলেন। উপামেকানোকে পেটে কনুই মারলেন আভালোস, কার্ড নেই। এমনকি ওলিসেকে গালার্সা দেরিতে ফাউল করলে কার্ড গেল ওলিসের কাছে— মাঠে প্রবল আলোচনা। গোলের পরও প্যারাগুয়ে মরিয়া হয়ে লড়লো— ১০ মিনিটের ইনজুরি টাইমে মাউরিসিওর শট লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু মাইকেল মাইনিয়ঁ সেভ করলেন। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের সংগঠিত রক্ষণ পয়েন্ট হারায়নি। 

রেকর্ডের পাতায় এমবাপ্পে

এই গোলে এমবাপ্পের বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে মোট গোল হলো ১০— সর্বকালের সর্বোচ্চ। টুর্নামেন্টে মোট সাত গোল নিয়ে মেসির সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যুক্ত হলেন তিনি। আর ফ্রান্স হলো প্রথম দল যারা পর পর পাঁচটি বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনটি বা তার বেশি গোল করেছে।

জার্মানিকে হারিয়ে আসা প্যারাগুয়ের স্বপ্নের যাত্রা এখানেই থামলো। কোয়ার্টার ফাইনালে ৯ জুলাই বোস্টনে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে মরক্কো।