বালোগুনের লাল কার্ড: ফিফাকে অনুরোধের কথা স্বীকার করেছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত বদলাতে ফিফা সভাপতির কাছে ফোন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন আলোচনার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন, ফিফার কাছে বিষয়টি পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন তিনি। তবে দাবি করেছেন, সিদ্ধান্তটি বাতিল করার জন্য কোনো চাপ দেননি।

সোমবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলাম, কারণ এটি ফাউল ছিল বলে আমার মনে হয়নি। আমি শুধু সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার কথা বলেছি, কী করতে হবে তা বলিনি।’

তার ভাষায়, ‘ওটা কোনো অপরাধই ছিল না। দুই খেলোয়াড় পূর্ণ গতিতে দৌড়াতে গিয়ে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে মাত্র।’

নিজে খেলাধুলা সম্পর্কে খুব ভালো বোঝেন বলে দাবি করা রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, শুরুতে তিনি জানতেন না যে লাল কার্ডের কারণে বালোগুন পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এ নিয়মকে তিনি অন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন।

লাল কার্ড দেখানো ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউসেরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তার অতীত খতিয়ে দেখলে কিছুটা সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।’

৩২ দলের পর্বে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর এক বসনিয়ান ডিফেন্ডারের গোড়ালিতে পা লাগানোর ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগুন। এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সোমবারের শেষ ষোলোর ম্যাচে তার খেলার কথা ছিল না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ড দেখলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে হয় এবং খেলোয়াড়ের দল এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে না।

কিন্তু আলোচিত ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বালোগুনের লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বদলাতে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিন ধরে তদবির চালায়।

এই উদ্যোগে হোয়াইট হাউজের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি এবং বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও প্রকাশ্যে বালোগুনের লাল কার্ড প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের ব্যক্তিগত ফোনালাপের পর রবিবার বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানায়, বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে একই ধরনের অপরাধ করলে তবেই তাকে ওই শাস্তি ভোগ করতে হবে।