শেষ বিশ্বকাপের ঘোষণাটা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। স্বপ্ন ছিল বিদায়টা রাঙিয়ে রাখার, কিন্তু শেষ অধ্যায়টি হলো বিষাদমাখা। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। আর তাতে শূন্য হাতেই শেষ হয়ে গেলো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকার বিশ্বকাপ অধ্যায়।
যে মঞ্চে অগণিত স্মৃতি উপহার দিয়েছেন, সেই বিশ্বকাপকেই বিদায় বলতে হলো অপূর্ণতার আক্ষেপ নিয়ে। আরেকটি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো পর্তুগিজ যুবরাজের।
দীর্ঘ সময় গোলের দেখা পাচ্ছিলো না কেউ। ম্যাচ যখন একেবারে শেষ মুহূর্তে, অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে তখনই জয়সূচক গোলটি পায় স্পেন। বদলি হয়ে নামা মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোলে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লা রোহারা। তাতে ২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর এই প্রথম শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
টেক্সাসের আর্লিংটনে ৯০+ ১ মিনিটে ফেরান তোরেসের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তাকে পরাস্ত করেন মেরিনো। তার একমাত্র গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের জয়।
শেষ দিকে অবশ্য ম্যাচ জমিয়ে তোলার চেষ্টা করে পর্তুগাল। দুইবার সমতায় ফেরার খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত ১-০ স্কোরলাইন ধরে রাখে স্প্যানিশরা।
অথচ ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল স্পেনের। দানি ওলমোর বাড়ানো পাসে পর্তুগালের রক্ষণ ভেদ করে বল পেয়ে যান মিকেল ওইয়ারজাবাল। কিন্তু রিয়াল সোসিয়েদাদের এই ফরোয়ার্ড জাল কাঁপাতে পারেননি।
এরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনের লামিনে ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনাকে হতাশ করেন পর্তুগালের গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তা। তবে পরের বড় সুযোগটি তৈরি করে পর্তুগালই। ৪১ মিনিটে অল্পের জন্য গোল হজম করা থেকে রক্ষা পায় স্পেন। নুনো মেন্দেসের জোরালোশট পেদ্রো পরোর গায়ে লেগে দিক বদলে ক্রসবারে আঘাত হানে। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতাই বজায় থাকে।
বিরতির পর ধীরে ধীরে ম্যাচে প্রভাব বাড়াতে থাকে রবার্তো মার্তিনেজের দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই ফাইনাল থার্ডে তেমন কার্যকর আক্রমণ গড়তে পারেনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ হবে বেলজিয়াম ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।







