১৫ বছর বয়সে বলেছিলেন, ‘মেসি, অবসর নিও না’: কে জানতো সেই ছেলেই আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলবে

ঠিক ১০ বছর আগের কথা। কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে লিওনেল মেসি যখন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তখন ১৫ বছরের এক কিশোর ব্যথিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন খোলা চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে মেসির উদ্দেশে সেই কিশোর লিখেছিলেন, ‘আমরা নিজেরা যেখানে ব্যর্থ, সেখানে আমরা তোমাকে কীভাবে বোঝাবো? আমাদের পুরো জীবনে কখনও তোমার কাঁধে থাকা চাপের ১ শতাংশও অনুভব করতে হয়নি। তুমি যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে আয়নায় তাকাও, তখন জেনো ৪০ কোটিরও বেশি মানুষ তোমার কাছ থেকে কেবল নিখুঁত পারফরম্যান্সই আশা করে না, বরং অদ্ভুতভাবে তারা সেটি তোমার কাছ থেকে দাবি করার অধিকারও খাটিয়ে বসে।’

২০১৬ সালের ২৭ জুন লেখা সেই চিঠির কিশোর আর কেউ নন, আজকের আর্জেন্টিনা দলের তারকা ফুটবলার এনজো ফার্নান্দেজ। ফুটবলের কী অপূর্ব নাটকীয়তা! ১০ বছর আগে যে ছেলেটি মেসিকে অবসর না নেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন, আজ সেই এনজো ফার্নান্দেজই মাঠের ভেতরে লিওনেল মেসির দেওয়া পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করেছেন। আর তার এই গোলেই চার বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছালো আর্জেন্টিনা।

সেদিনের সেই চিঠিতে এনজো আরও লিখেছিলেন, আমরা কীভাবে তোমাকে বোঝাবো, যখন আমরা এটাই বুঝতে পারছি না যে তুমিও একজন মানুষ! অসাধারণ এক প্রতিভার অধিকারী, এই গ্রহের সেরা খেলোয়াড়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তুমিও একজন মানুষ। হারের পর আমাদের যে ক্ষোভ জন্ম নেয়, তা যে মূলত আমাদের নিজেদের জীবনের ব্যর্থতা ও হতাশা থেকে আসে, আর তার জন্য তুমি যে দায়ী নও, সেটি বোঝার ক্ষমতাও আমাদের নেই। আমাদের নিজেদের আয়নায় তাকানো উচিত এবং নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত, আমরা কী এই ছেলেটির কাছে যা দাবি করি, তার ১ শতাংশও নিজের কাছে দাবি করতে পারি?

মেসির ওপর তৈরি করা অস্বাভাবিক চাপের সমালোচনা করে সেদিনের সেই ১৫ বছরের তরুণ লিখেছিলেন, সারা বিশ্ব যেখানে তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ, সেখানে ছুটিতে সমুদ্রসৈকতে শুয়ে না থেকে তুমি আমাদের দেশের জার্সি গায়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছো, আর কিছু মানুষ কেবল এটাই খুঁজে বেড়ায় যে তুমি জাতীয় সংগীত গাইছো কিনা বা মাঠে দৌড়াচ্ছো কিনা। লিওনেল, তুমি যা চাও তা-ই করো, কিন্তু দয়া করে দলে থেকে যাওয়ার কথা ভাবো। তবে তা কেবল খেলার আনন্দ পাওয়ার জন্য, যা এই মানুষগুলো তোমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। এই অদ্ভুত চাপের দুনিয়ায় তারা খেলার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস ‘আনন্দ’টাই কেড়ে নিয়েছে। আলবিসেলেস্তে জার্সিতে তোমাকে খেলতে দেখা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। তুমি স্রেফ আনন্দের জন্য খেলো, কারণ তুমি যখন খেলাটা উপভোগ করো, তখন আমরা কতটা আনন্দ পাই তা তুমি ধারণাও করতে পারবে না। ধন্যবাদ এবং আমাদের মাফ করে দিও...।