টিকি-টাকার কথা উঠলেই প্রথমেই যে দলের নাম আসে, সেটি স্পেন। ছোট ছোট নিখুঁত পাস, বলের দখলে প্রতিপক্ষকে অসহায় করে তোলার সেই ফুটবল দর্শনেই একসময় বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছে লা রোহারা। এবার সেই ঐতিহ্যকে সঙ্গী করেই বিশ্বকাপ ফাইনালে নামছে স্পেন। তবে প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাও এবারের আসরে পাসিং ফুটবলে সমান উজ্জ্বল। ফলে টিকি-টাকার জনক স্পেনের সামনে তাদেরই অস্ত্র দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তাই টিকি-টাকার লড়াইয়ে অপেক্ষা জমজমাট এক ফাইনালের।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সফল পাস করেছে আর্জেন্টিনা ৪ হাজার ২০৭টি। শুধু বলের দখলই নয়, সেই পাসিংকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিয়েছে লা আলবিসেলেস্তেরা। এখন পর্যন্ত ১৯টি গোল করেছে। এছাড়া ছয়বার তাদের শট লেগেছে পোস্ট বা ক্রসবারে, যা আক্রমণে ধারাবাহিক আধিপত্যেরই প্রমাণ।
স্পেনের সফল পাসের সংখ্যা ৪ হাজার ১৮। পাসিংয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে সামান্য পিছিয়ে থাকলেও রক্ষণে তারা পুরো টুর্নামেন্টের সেরা দল। এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্প্যানিশরা। পাশাপাশি ছয়টি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রেখে ক্লিন শিটও ধরে রেখেছে।
টিকি-টাকার লড়াইয়ে কে এগিয়ে?
পরিসংখ্যান বলছে, আক্রমণে স্পষ্টভাবে এগিয়ে আর্জেন্টিনা, আর রক্ষণে একচেটিয়া আধিপত্য স্পেনের। অর্থাৎ ফাইনালে দেখা যাবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণের বিপক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী রক্ষণভাগের লড়াই।
ফুটবলীয় দর্শনে দুই দলই বল দখল ও ছোট ছোট পাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে পার্থক্যটা ফাইনাল থার্ডে। আর্জেন্টিনা যেখানে দ্রুত আক্রমণে ফিনিশিংয়ে অভ্যস্ত, স্পেন সেখানে ধৈর্য ধরে বল ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে সুযোগ তৈরি করে।
তাই ফাইনালের আগে প্রশ্ন উঠেছে, আর্জেন্টিনার আগ্রাসী আক্রমণ কি স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভাঙতে পারবে, নাকি টিকি-টাকার আসল রাজা হয়ে উঠবে স্পেন?