ইতিহাস গড়া হাফটাইম শো, মঞ্চ মাতালেন ম্যাডোনা-শাকিরা-জাস্টিন বিবার-বিটিএস

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপার বোলের আদলে আয়োজিত হাফটাইম শো বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম বড় আকর্ষণে পরিণত হয়। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনালের প্রথমার্ধ শেষে প্রায় ১১ মিনিটের এই পরিবেশনায় সংগীত, বিনোদন, ফুটবল ঐতিহ্য এবং জনপ্রিয় সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয় দেখা যায়।

ছবি: তানজীম আহমেদ/বাংলা ট্রিবিউন

মাঠে বিশাল মঞ্চ স্থাপন ও অপসারণের কারণে বিরতিও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দীর্ঘ হয়।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর পুরো মাঠ ঢেকে দেওয়া হয় বহুরঙা বিশেষ মঞ্চে। মাঝখানে ফুটিয়ে তোলা হয় বিশ্বের মানচিত্রের বিশাল নকশা, যার ওপর শুরু হয় বর্ণিল পরিবেশনা।

মঞ্চে ম্যাডোনা। মঙ্গে রোনালদো ও রোনালদিনিয়ো

হাফটাইম শোর সূচনা করেন মার্কিন পপসংগীতের কিংবদন্তি ‘ম্যাডোনা’। শুরুতেই তাকে দেখা যায় ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও ও রোনালদিনিয়োর চালানো একটি বাগিতে দাঁড়িয়ে মঞ্চে প্রবেশ করতে।

এরপর একে একে মঞ্চে ওঠেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস, কলম্বিয়ার বিশ্বখ্যাত গায়িকা শাকিরা এবং কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবার। নিজেদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে তারা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শককে মাতিয়ে তোলেন।

বিশ্বকাপ মাঠে জাস্টিন বিবার

বিনোদনের পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসকেও তুলে ধরা হয় এই আয়োজনে। বিশ্বকাপের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি পেলেকে স্মরণ করে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর একদল শিশু সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশন করে, যা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে।

মঞ্চে বিটিএস সদস্যরা

শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকেও রাখা হয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। দ্য মাপেট শো-এর ‘কারমিট’ ও ‘মিস পিগি’ নৃত্য পরিবেশন করেন। পরে ‘সেসেমি স্ট্রিট’-এর চরিত্ররা মঞ্চে উঠে জনপ্রিয় গান ‘সেভেন ন্যাশন আর্মি’ পরিবেশন করে দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তোলে।

হাফ টাইম শো

অনুষ্ঠানে ছিল আরও একটি চমক। জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘টেড ল্যাসো’-এর প্রধান চরিত্র টেড ল্যাসো ও কোচ বিয়ার্ড মঞ্চে উপস্থিত হয়ে দর্শকদের অভিবাদন জানান। পরে টেড ল্যাসোর পরিচয়ের মধ্য দিয়ে মঞ্চে আসেন জাস্টিন বিবার, যিনি হাতে গিটার নিয়ে একক পরিবেশনা করেন।

বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনকে ফুটবল ও বৈশ্বিক বিনোদন সংস্কৃতির এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে ফিফা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি হাফটাইম শোও কোটি কোটি দর্শকের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।