কেন কখনও চুল বাঁধেন না কুকুরেয়া? নেপথ্যে আবেগঘন সত্য

মার্ক কুকুরেয়ার ঘন কোঁকড়ানো চুল এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচনার বিষয়। অনেকেই ভাবেন এটি শুধু তার স্টাইলের অংশ। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প বলছে, এই চুলের পেছনে লুকিয়ে আছে একজন বাবার গভীর ভালোবাসা।
 
স্পেনের জাতীয় দলের তারকা এবং বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার তার কোঁকড়ানো লম্বা চুলের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপে স্পেনের দুই ম্যাচে সন্দেহজনক বেটিং, এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি এই স্টাইল ধরে রেখেছেন। আর বহুবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চুল ছোট করা বা বেঁধে খেলার কোনও পরিকল্পনাই তার নেই।

মজার বিষয় হলো, লম্বা চুলের অনেক ফুটবলার—যেমন আর্লিং হাল্যান্ড কিন্তু ম্যাচের আগে চুল বেঁধে নিলেও কুকুরেয়া সবসময় চুল খোলা রেখেই খেলেন। যদিও ম্যাচ চলাকালে তাকে প্রায়ই মুখ থেকে চুল সরাতে দেখা যায়।

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর মাঠজুড়ে খোলা চুল উড়িয়ে দৌড়ানো কুকুরেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর হাজারো সমর্থকের মনে একই প্রশ্ন জাগে- কেন তিনি চুল বাঁধেন না কখনও? সেই সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কুকুরেয়া নাকি ইচ্ছা করেই চুল খোলা রাখেন, যাতে তার বড় ছেলে মাতেও মাঠে বাবাকে সহজেই চিনতে পারেন। কারণ মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। 

বিষয়টি আলোচনায় আসে, কারণ তার পরিবারের দেওয়া আগের কয়েকটি আবেগঘন সাক্ষাৎকার আবারও ভাইরাল হয়ে পড়ে।

অ্যামাজন প্রাইম-এর একটি তথ্যচিত্রে কুকুরেয়া ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী ক্লদিয়া রদ্রিগেজ তাদের ছেলে মাতেওর অটিজম নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। রদ্রিগেজ জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে রোগ নির্ণয়ের আগেই তারা বুঝতে পেরেছিলেন, ছেলের আচরণ অন্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা।

তিনি স্মরণ করেন, মাতেওকে স্কুলে রেখে বাড়ি ফেরার সময় তারা প্রায়ই কেঁদে ফেলতেন, কারণ নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সে খুব কষ্ট পাচ্ছিল। তথ্যচিত্রে কুকুরেয়াকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

তাকে বলতে দেখা যায়, ‘কেউ আপনাকে এটা শেখায় না। আপনাকেই শিখতে হয়, কীভাবে তাকে বুঝতে হবে।’

চুল নিয়ে তিনি আরেক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মানুষ আমার চুল দেখেই সঙ্গে সঙ্গে বুঝে যায় এটা আমি। এটা এখন আমার পরিচয়েরই একটি অংশ। যদি চুল কেটে ফেলি, তাহলে মনে হবে যেন নিজের স্বাতন্ত্র্যের একটি অংশ হারিয়ে ফেলেছি। আমার ছোট ছেলে অটিজমে আক্রান্ত। আমি ইচ্ছা করেই চুল লম্বা ও এলোমেলো রাখি, যাতে ম্যাচ চলাকালে সে খুব সহজেই আমাকে চিনতে পারে।’