বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে লিওনেল মেসি শুধু একটি নাম নয়, এক অনন্য অধ্যায়। মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়া এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার নামের পেছনেও লুকিয়ে আছে চমকপ্রদ এক গল্প। অনেকেই জানেন না মেসির নামকরণের অনুপ্রেরণা ফুটবল থেকে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি এক গায়কের কাছ থেকে এসেছিল। কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, আর কীভাবেই বা বহু বছর পর মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই লিওনেল- চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই গল্প।
লিওনেল মেসির পুরো নাম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচ্চিত্তিনি। মেসির মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি জানিয়েছেন, তার ছেলের নাম রাখা হয়েছিল গ্র্যামিজয়ী মার্কিন সংগীতশিল্পী লিওনেল রিচির নাম অনুসারে। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে মেসির জন্মের আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন: লিভারপুলের পর এবার জার্মানি, নতুন মিশনে ক্লপ
মেসি ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমদিকে তার বাবা-মা ছেলের নাম রাখতে চেয়েছিলেন লেওনেলের প্রচলিত বানানে Leonel, যা আর্জেন্টিনায় তুলনামূলক বেশি প্রচলিত।
কিন্তু ২০১০ সালে আর্জেন্টাইন টেলিভিশন চ্যানেল টেলেফেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির মা জানান, তিনি ও তার স্বামী হোর্হে মেসি দুজনই ছিলেন লিওনেল রিচির বড় ভক্ত। সেই ভালোবাসা থেকেই শেষ মুহূর্তে ছেলের নামের বানান বদলে রাখা হয় লিওনেল-Lionel।
মজার বিষয় হলো, হোর্হে মেসি নাকি এই পরিবর্তনের কথা জানতেই পারেননি। জন্মসনদে ছেলের নাম দেখে তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন। পরে সেলিয়া মজা করে বলেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি জানার পর তার স্বামী এতটাই অবাক হয়েছিলেন যে তিনি ‘প্রায় আমাকে মেরেই ফেলেছিলেন!’ তবে শেষ পর্যন্ত নামটি আর বদলানো হয়নি।
বহু বছর ধরে এই গল্পটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে কেবল একটি মজার তথ্য হিসেবেই পরিচিত ছিল। অবশেষে ২০২৫ সালে সেই গল্প যেন পূর্ণতা পায়।
এর আগেও রিচি এই গল্পের সত্যতা স্বীকার করেছিলেন। টিএমজেড স্পোর্টসকে বলেছিলেন, ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের নাম তার নামে রাখা হয়েছে, যা তার জন্য গর্বের বিষয়।