সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে প্রথমবারের মতো সাবেক ফুটবলারদের একটি অংশ জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তারকা ফুটবলার ও কোচ আলফাজ আহমেদ, এনামুল হক, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবসহ অনেকে।
তবে ফুটবলার হয়ে হ্যান্ডবল, হকি কিংবা অন্য ফেডারেশনে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন ৫৩ বছর বয়সী সাবেক জাতীয় দলের ফুটবলার ও কোচ আলফাজ আহমেদ।
বাংলা ট্রিবিউন: হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে আপনার নাম দেখা গেলো। হঠাৎ পায়ের খেলা ছেড়ে হাতের খেলার দিকে ঝুঁকলেন কেন?
আলফাজ আহমেদ: আসলে বিষয়টি হঠাৎ নয়। আমাদের ক্রীড়া দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফেডারেশনে প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আমিও হ্যান্ডবল ফেডারেশনে এসেছি। এর বাইরে অন্য কোনও কারণ নেই।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আপনি তো ফুটবলের মানুষ। খেলোয়াড় ছিলেন, এখন সফল কোচও। হ্যান্ডবল ফেডারেশনে দায়িত্ব নেওয়াটা বেমানান মনে হচ্ছে না?
আলফাজ আহমেদ: না, বেমানান মনে করি না। আমি তো ক্রীড়াঙ্গনের বাইরের কেউ নই। উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। আমরা সেটাই করতে এসেছি, এর বেশি কিছু নয়।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু হ্যান্ডবল, হকি কিংবা অন্য ফেডারেশনে আপনাদের বদলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকলে কি ভালো হতো না? যারা দীর্ঘদিন ধরে ওই খেলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত, তারাই তো বেশি দাবিদার।
একটা উদাহরণ দেই। এর আগে আমাদের বাবলু ভাই (হাসানুজ্জামান বাবলু) তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনে ছিলেন। তিনি তো ফুটবলার, কোচ ও সংগঠক ছিলেন। তাহলে তিনি কীভাবে তায়কোয়ান্দো ফেডারেশনে গেলেন? এমন ঘটনা নতুন নয়।
আর একটা কথা বলি, আমি দুটি শিরোপা এনে দিয়েও এখন কোনও দল পাই না। আসলে বাংলাদেশ এভাবেই চলছে।
আরেকটা উদাহরণ হলো ক্রিকেট বোর্ড। সেখানে তামিম ইকবাল ছাড়া কজন প্রকৃত ক্রীড়া সংগঠক আছেন? সেই জায়গায় আমরা অন্তত মাঠের মানুষ। খেলাধুলা সম্পর্কে আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। বিভিন্ন ফেডারেশনে থেকে ভালো-মন্দ বিচার করার সক্ষমতাও আছে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়া। দেখি, সবাই মিলে ভালো কিছু করা যায় কিনা। বলতে পারেন এটা নতুনত্বেরই অংশ।
বাংলা ট্রিবিউন: মানে আপনি সামনের দিকে আর হ্যান্ডবল ফেডারেশনে থাকছেন না?
আলফাজ আহমেদ: আপাতত এমন কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী হয়, সেটা তো এখনই বলা কঠিন।
বাংলা ট্রিবিউন: অনেকেই বলছেন ফুটবলার বা অন্য ডিসিপ্লিনের লোকজন অন্য ফেডারেশনে গিয়ে কী করবেন? তারা তো নিজেদের খেলাকেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে পারেননি।
আলফাজ আহমেদ: আমি বিষয়টিকে সেভাবে দেখি না। আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গায় কাজ করেছি। কোথাও সফল হয়েছি, কোথাও হয়তো পারিনি। এখন নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। সেটি ভালোভাবে পালন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। যদি নতুন করে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ইতিবাচক কিছু করা যায়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য।
বাংলা ট্রিবিউন: ফুটবলের কোচিং কি ছেড়ে দিয়েছেন?
আলফাজ আহমেদ: না, ফুটবল তো আমার রক্তে মিশে আছে। এটা ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।
বাংলা ট্রিবিউন: মোহামেডান ছাড়ার পর এখন কী ভাবছেন?
আলফাজ আহমেদ: কী আর ভাববো... কোনও দলই তো পাচ্ছি না। গত মৌসুমের আগে আমি সফল কোচ ছিলাম। অনেক দিন পর মোহামেডানকে শিরোপা এনে দিয়েছি। কিন্তু মাঝপথেই দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। এখন এমন কোনও ক্লাবও নেই, যেখানে কোচিং করাতে পারি। আমি তো নিজে গিয়ে কোনও ক্লাবকে বলতে পারি না যে আমাকে কোচ হিসেবে নিন।
বাংলা ট্রিবিউন: কেন এমন হচ্ছে বলে মনে করেন?
আলফাজ আহমেদ: আমি ঠিক জানি না। দেখুন, মারুফ ভাই কিংবা মিন্টুর মতো প্রো-লাইসেন্সধারী কোচরাও বসে আছেন। তারাও এ মৌসুমে কাজ পাবেন কিনা জানি না। ক্লাবগুলোর অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার প্রিয় মোহামেডান স্পোর্টিংয়ের খোঁজ-খবর রাখেন?
আলফাজ আহমেদ: শুনেছি তারা বিদেশি কোচ আনবে। আনুক। যদি তাতে তারা সফল হয়, তাহলে সেটাই ভালো। আমি সব সময় ক্লাবের মঙ্গল কামনা করি।
বাংলা ট্রিবিউন: এতদিন পর মোহামেডানকে সাফল্য এনে দিয়েও আপনার বিদায়টা সুখকর হয়নি। বিষয়টি এখনও ভাবলে কি খারাপ লাগে?
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে পছন্দের খেলোয়াড় খেলানো, কমিশন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ উঠেছিল...।
আলফাজ আহমেদ: আমি আর নকীব (ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব) মিলে কীভাবে দল পরিচালনা করেছি, সেটা সবাই জানে। কষ্ট করে, খুঁজে খুঁজে খেলোয়াড় এনে দল গড়েছি। দুঃসময়ে ক্লাবকে টিকিয়ে রেখেছি। যারা সাইড বেঞ্চে বসে ছিল, তারাই এসব অভিযোগ করেছে। যদি সত্যিই এত সমস্যা থাকতো, তাহলে দল দুটি শিরোপা জিতলো কীভাবে?
বরং আমি বলতে পারি, ক্লাবের অনেক টাকা সাশ্রয় করেছি। আর যেদিন খেলোয়াড়দের বকেয়া পাওনার দাবিতে কথা বলতে গিয়েছি, সেদিন থেকেই আমি অনেকের চোখে খারাপ হয়ে গেছি। আসলে এ নিয়ে আর কিছু বলার নেই।
বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে কোচিং ছেড়ে হ্যান্ডবলেই থাকবেন?
আলফাজ আহমেদ: না, আমি ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। ক্রীড়া উপদেষ্টা আমিনুল ভাই আমাকে একটি দায়িত্ব দিয়েছেন। সেটা সফলভাবে পালন করতে চাই। আর কোচিংয়ের সুযোগ এলে অবশ্যই আবার ডাগআউটে দাঁড়াবো। ফুটবলকে আমি কখনোই ছাড়তে পারবো না।
বাংলা ট্রিবিউন: ধন্যবাদ আপনাকে।
আলফাজ আহমেদ: আপনাকেও ধন্যবাদ। আবারও বলছি, আমি ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ। তাই যে দায়িত্বই পাই, সেটি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন আমার পুরো মনোযোগ সেদিকেই।