বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে দামি ১০ কোচ, তালিকায় কারা আছেন?

ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের মতো কোচরাও এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ক্লাবের সাফল্য আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বিশ্বের সেরা কোচরা পাচ্ছেন আকাশছোঁয়া বেতন। ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবল কোচদের তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু চমক। হোসে মরিনহো, মিকেল আর্তেতা ও ডিয়েগো সিমিওনের মতো তারকাদের ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন সৌদি ক্লাব আল-হিলালের কোচ সিমোন ইনজাগি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ১০ ফুটবল কোচকে।

১০. ম্যাথিয়াস ইয়াইসলে – বছরে ৯.৬ মিলিয়ন পাউন্ড

মাত্র ৩৮ বছর বয়সী ম্যাথিয়াস ইয়াইসলেই এই তালিকার সবচেয়ে তরুণ কোচ। তিনি ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে (৮.১ মিলিয়ন পাউন্ড) পেছনে ফেলে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন।

রেড বুল সলজবুর্গে দারুণ সাফল্যের পর ২০২৩ সালে তাকে দলে ভেড়ায় সৌদি ক্লাব আল-আহলি। এরপর ক্লাবটিকে টানা দুইবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট শিরোপা জিতিয়েছেন। ভবিষ্যতে ইউরোপে তার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাও জোরালো।

৯. লুসিয়ানো স্পালেত্তি – বছরে ৯.৭ মিলিয়ন পাউন্ড

পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে জুভেন্টাস বড় বিনিয়োগ করেছে। থিয়াগো মোত্তা ও ইগর টিউডরের পর গত গ্রীষ্মে দায়িত্ব পান স্পালেত্তি।

গত মৌসুমে জুভেন্টাস সিরি আ-তে ষষ্ঠ হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলতে ব্যর্থ হয়। আগামী মৌসুমে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর বড় চ্যালেঞ্জ তার সামনে।

৮. আন্দোনি ইরাওলা – বছরে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড

জুন মাসে লিভারপুল তাকে নিয়োগ দেওয়ার পর তিনি প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত কোচে পরিণত হন।

বোর্নমাউথে সফল হলেও অ্যানফিল্ডের চাপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন দেখার বিষয়, তার কৌশল লিভারপুলের মতো বড় ক্লাবে কতটা সফল হয়।

৭. লুইস এনরিকে – বছরে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড

পিএসজিকে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর পর নতুন চুক্তিতে আরও বেশি বেতন দাবি করতেই পারেন এনরিকে।

স্প্যানিশ এই কোচ পিএসজির সংস্কৃতিই বদলে দিয়েছেন এবং ইউরোপের সেরা ক্লাব হিসেবে দলটিকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

৬. হোসে মরিনহো – বছরে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড

রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় দফায় ফিরে এসে বছরে ১০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড বেতন পাচ্ছেন মরিনহো। বরাবরের মতোই তাকে ঘিরে প্রত্যাশা এবং চাপ—দুটোই আকাশছোঁয়া।

৫. জাবি আলোনসো – বছরে ১১.৩ মিলিয়ন পাউন্ড

রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে চেলসিতে যোগ দিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন জাবি আলোনসো।

ইতোমধ্যেই মরগান রজার্সকে দলে নিতে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে চেলসি। এবার সেই বিনিয়োগের ফল এনে দেওয়ার দায়িত্ব আলোনসোর।

৪. অলিভার গ্লাসনার – বছরে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড

ক্রিস্টাল প্যালেসকে শিরোপাজয়ী দলে পরিণত করার পর ইউরোপের বড় বড় ক্লাবের নজরে ছিলেন গ্লাসনার।

তবে সবাইকে অবাক করে তিনি নটিংহাম ফরেস্টে যোগ দেন। বছরে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল বেতনই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩. মিকেল আর্তেতা – বছরে ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আর্সেনালের সঙ্গে নতুন তিন বছরের চুক্তি করেন আর্তেতা, যা তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত কোচদের একজন বানিয়েছে।

২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্সেনালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতে তার পরিশ্রমের পুরস্কারও মিলেছে।

২. ডিয়েগো সিমিওনে – বছরে ২০.৩ মিলিয়ন পাউন্ড

২০১১ সাল থেকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের দায়িত্বে থাকা সিমিওনে বিশ্বের দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কোচদের একজন।

বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রতি মৌসুমেই অ্যাটলেটিকোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখেন তিনি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে।

১. সিমোন ইনজাগি – বছরে ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড

ইন্টার মিলান ছেড়ে গত গ্রীষ্মে সৌদি ক্লাব আল-হিলালে যোগ দেওয়ার পর বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত কোচে পরিণত হন সিমোন ইনজাগি।

সৌদি আরবে তিনি বছরে ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪ লাখ ৫৪ হাজার পাউন্ড আয় করেন।

তবে এত বিশাল বেতন পাওয়ার পরও তার দল আল-হিলালকে সর্বশেষ সৌদি প্রো লিগে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।