সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র হয়েছে আগের দিন। বাংলাদেশের ‘এ’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা ও ভুটানের সঙ্গে অবস্থান। নিজেদের গ্রুপকে কঠিন মানছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আঞ্চলিক ফুটবলের সেরা আসরে স্বাগতিকদের চূড়ান্ত সাফল্য পাওয়ার বিষয়ে তিনি বেশ আশাবাদী।
গ্রুপ নিয়ে তপুর কথা, ‘গ্রুপটা আসলেই অনেক কঠিন। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আমরা অনেক দিন ধরে খেলিনি। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে তারা বেশ ভালো পারফর্ম করেছে এবং গোলরক্ষক ছাড়া তাদের পুরো দলটিই প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। আমার মনে হয় শ্রীলঙ্কা বেশ শক্তিশালী একটি দল।’
এরপরই তার কথা, ‘আমরা সম্প্রতি ভুটানের বিপক্ষে খেলেছি, তাই তাদের সম্পর্কে আমরা খুব ভালোভাবেই জানি। সার্বিকভাবে আমাদের বিশ্বাস, নিজস্ব সমর্থকদের সামনে ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা আমরা পাবো। সেপ্টেম্বরের ফিফা উইন্ডোতেও আমরা ঘরের মাঠে আরও একটি ম্যাচ পাবো, তাই চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আমি দারুণ ইতিবাচক।’
বাংলাদেশ সর্বশেষ ২০২১ সালের নভেম্বরে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত মাহিন্দা রাজাপাকসে ট্রফিতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। তবে এর আগে একই বছরে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুটি হারের রেকর্ড রয়েছে— একটি ২০১৬ সালে এএফসি এশিয়ান কাপ প্লে-অফে ৩-১ ব্যবধানে এবং অন্যটি ২০২৪ সালে থিম্পুতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে। তবে ২০২৫ সালের সর্বশেষ দেখায় ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
তপু চান ফাইনাল খেলতে, ‘সম্প্রতি আমরা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভালো ফুটবল খেলেছি এবং নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে সান মারিনোকেও হারিয়েছি। সবচেয়ে বড় কথা, এই খেলোয়াড়দের দলটি এখন একটি সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ দলে পরিণত হয়েছে এবং আমাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও বেশ চমৎকার।’
এই ডিফেন্ডার আরও যোগ করেন, দুই দশকেরও বেশি সময় পর আবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার এবং নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন দেখছে পুরো দল। তার পরিষ্কার কথা, ‘দেশের জন্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্ব কতটা, তা সবাই খুব ভালোভাবেই বোঝে। আমরা যখনই নিজেদের মধ্যে কথা বলি, সাফের প্রসঙ্গটি উঠে আসে। ২০০৩ সালের জয়ের পর আবার সেই শিরোপা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখি আমরা। আমরা সবাই ইতিবাচক, তবে ম্যাচ বাই ম্যাচ আমাদের উন্নতি করে যেতে হবে। যদি আমরা সেটা করতে পারি, তবে ঘরের মাঠে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে।’