বিশ্বকাপের মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। আগামী বছরের নির্বাচন সামনে রেখে প্রশ্ন উঠছে যে, অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে পদ থেকে কি সরিয়ে দেওয়া সম্ভব?
ফিফার আইনে অবশ্য এর একটি পথ রাখা আছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হলে কীভাবে এগোবে পুরো প্রক্রিয়া।
কারা অনাস্থা ভোটের উদ্যোগ নিতে পারে?
ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৪৩টি দেশ লিখিতভাবে অনুরোধ জানালে ফিফা কাউন্সিলকে একটি বিশেষ কংগ্রেস ডাকতে হবে।
অর্থাৎ, কোনো একটি সদস্য দেশ এককভাবে অনাস্থা ভোটের দাবি তুলতে পারবে না। লিখিত অনুরোধ পাওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে বিশেষ কংগ্রেস আয়োজন করতে হবে এবং সেই কংগ্রেসের এজেন্ডাও পরিবর্তন করা যাবে না।
তবে কোনো একটি কনফেডারেশনের সদস্য দেশগুলো একজোট হলেও প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ হতে পারে। যেমন ইউরোপে উয়েফার ৫৫ সদস্য দেশই একসঙ্গে অনুরোধ জানালে তা যথেষ্ট। একইভাবে ৪৭ সদস্যের এএফসিও এই উদ্যোগ নিতে পারে।
উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ ইতোমধ্যেই ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছে এবং তাকে পদত্যাগের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তাহলে ইনফান্তিনোর ভাগ্য কে নির্ধারণ করবে?
বিশেষ কংগ্রেস ডাকা হলে প্রতিটি দেশের থাকবে একটি করে ভোট। তবে কংগ্রেসে উপস্থিত সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরাই ভোট দিতে পারবেন।
সশরীরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসে অন্য কারও হয়ে ভোট দেওয়া বা চিঠির মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।
ইনফান্তিনোকে সরাতে কত ভোট লাগবে?
এখানেই তৈরি হয়েছে কিছুটা অস্পষ্টতা। ফিফার সংবিধানে সভাপতির নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিস্তারিত নিয়ম রয়েছে। কিন্তু অনাস্থা ভোটে ঠিক কত শতাংশ ভোটে সভাপতিকে সরানো যাবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তবে আইনে বলা হয়েছে, অন্য কোনো বিধান না থাকলে নির্বাচন, ভোট বা অন্যান্য সিদ্ধান্ত বৈধ হওয়ার জন্য প্রদত্ত বৈধ ভোটের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্থাৎ ৫০ শতাংশের বেশি ভোট-ই যথেষ্ট।
সুতরাং, আলাদা কোনো বিধান প্রয়োগ না হলে ইনফান্তিনোকে সরাতে বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে।
ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দিলে কী হবে?
ফিফার আইন অনুযায়ী, কোনো কারণে সভাপতি স্থায়ী বা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে সবচেয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট সভাপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
নতুন সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর প্রয়োজন হলে পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হবে।
ফিফার আট ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘদিন কাউন্সিল সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাহরাইনের শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। তিনি একই সঙ্গে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতিও।
এর আগে কি ফিফায় অনাস্থা ভোট হয়েছে?
কোনো দায়িত্বশীল ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হওয়ার নজির নেই। তবে ২০০১ সালে সেপ ব্ল্যাটারকে ঘিরে পরিস্থিতি বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
ফিফার মার্কেটিং পার্টনার আইএসএলের পতন এবং ফিফার পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের পর ব্ল্যাটারের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। তৎকালীন উয়েফা সভাপতি লেনার্ট ইয়োহানসন প্রকাশ্যেই অনাস্থা প্রস্তাবের সম্ভাবনা তুলেছিলেন।
এমনকি বিশেষ ফিফা নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ব্ল্যাটারকে কঠোর প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ভোট হয়নি এবং চ্যালেঞ্জ সামলে নিজের পদে টিকে যান ব্ল্যাটার।
২০০২ সালেও ফিফার মহাসচিব মিশেল জেন-রুফিনেনকে ঘিরে বিরোধের সময় ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেবারও বিষয়টি আনুষ্ঠানিক কংগ্রেস ভোট পর্যন্ত গড়ায়নি।