প্রিমিয়ার লিগের শিরোপার দৌড়ে চেলসিকে নিয়ে এতদিন ছিল সংশয়। আক্রমণভাগ, মাঝমাঠ কিংবা রক্ষণে দল গঠনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও গোলবারে সেই নিশ্চয়তা মিলছিল না। এবার সেখানেই বড় পরিবর্তন এসেছে। অ্যাস্টন ভিলা থেকে ১ কোটি ডলারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে দলে ভিড়িয়েছে চেলসি।
৩৩ বছর বয়সী মার্তিনেজ বহু বছর ধরে ভিলার গোলবারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। চেলসির যে পজিশনে বড় ধরনের উন্নতি দরকার ছিল, সেখানে তার আগমন নিঃসন্দেহে বড় উন্নতি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন গোলরক্ষক না নেওয়ার সিদ্ধান্ত চেলসিকে ভুগিয়েছে। মার্তিনেজ এমন একজন গোলরক্ষক, যিনি একটি মৌসুমে একাই দলকে ৮ থেকে ১০ পয়েন্ট এনে দিতে পারেন-অন্তত এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকরা। কথাটা হয়তো বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতাও অনেকটা তেমনই। তার অভিজ্ঞতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং বড় ম্যাচে পারফর্ম করার সক্ষমতা-সবকিছুই চেলসিতে সফল হওয়ার পক্ষে।
তাই মার্তিনেজের আগমন চেলসির অবস্থানকে নিঃসন্দেহে বদলে দিয়েছে। মৌসুম শুরুর আগে যেখানে তারা মূলত শীর্ষ চারে থাকার লড়াইয়ের দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল, এখন সেখানে সীমিত হলেও শিরোপার দাবিদার হিসেবে তাদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তাই বড় অস্ত্র
ফুলহ্যামের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পথে রবার্ট সানচেজ দুটি বড় ভুল করার পরই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাবি আলোনসো ও চেলসি বোর্ড।
সানচেজের বড় ভুল করে গোল হজম করানোর প্রবণতা নতুন নয়। বারবার একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এবার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
মার্তিনেজের আগমনে চেলসির রক্ষণভাগও এখন বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাবে। কারণ তাদের পেছনে থাকবেন এমন একজন গোলরক্ষক, যিনি অবিশ্বাস্য সেভ করতে পারেন এবং একই সঙ্গে ম্যাচ জেতার জন্য কী প্রয়োজন, সেই অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে।
অবশ্য মার্তিনেজও মাঝেমধ্যে ভুল করেন। তবে তার খেলার অন্যান্য দিক সেই দুর্বলতাগুলো অনেকটাই পুষিয়ে দেয়।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মার্তিনেজের চেয়ে বেশি সেভের ক্ষেত্রে শতাংশে এগিয়ে ছিলেন শুধু জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। গোল রুখে দেওয়ার পরিসংখ্যানেও মার্তিনেজের ওপরে ছিলেন কেবল দোন্নারুম্মা ও সেন লামেন্স।
স্বল্পমেয়াদি সমাধান, যার প্রভাব বড় হতে পারে
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চেলসি প্রায় প্রতিটি পজিশনেই বিপুল অর্থ খরচ করেছে। ব্যতিক্রম ছিল গোলবার। তরুণ বেলজিয়ান গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সকে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হলেও এখনই তাকে প্রিমিয়ার লিগের চাপ সামলানোর জন্য প্রস্তুত মনে করা হচ্ছে না। তাই গোলরক্ষক নিয়ে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করার সময়টা এবারই ছিল।
মার্তিনেজ চেলসির জন্য দুর্দান্ত একটি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারেন। আর এই দলটিতে বাড়তি অভিজ্ঞতা যোগ করার জন্য আলোনসোকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।
ড্যানি ওয়েলবেক, জর্ডান হেন্ডারসন এবং এবার মার্তিনেজ-তিনজনই তরুণ চেলসি দলে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারেন। আর শিরোপার মতো দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ে এই অভিজ্ঞতার মূল্য কম নয়। তবে শেষ পর্যন্ত মার্তিনেজ চেলসির ভাগ্য কতটা বদলাতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।