২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর থেকেই গুঞ্জন, আর্জেন্টিনা থেকে অবসর নিচ্ছেন লিওনেল মেসি। সেই গুঞ্জনকেই সত্য বানিয়ে দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ফুটবলের এই মহাতারকা। আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তার বিদায়ের ঘোষণা দিলেন এমন এক বার্তায়, যা কোনও আনুষ্ঠানিক অবসরপত্রের চেয়ে দেশের উদ্দেশে লেখা এক গভীর ব্যক্তিগত চিঠির মতোই বেশি অনুভূত হয়—সেই দেশ, যাকে তিনি কৈশোর থেকে প্রতিনিধিত্ব করে এসেছেন।
তবে কেবল তার শব্দগুলোই নজর কাড়েনি। হাতে লেখা পাতাগুলোর ঠিক পাশেই রাখা ছিল একটি সোনালী রঙের হ্যারি পটার পেন, যার মাথায় শোভা পাচ্ছিল এই সিরিজের অন্যতম পরিচিত একটি বস্তু: টাইম-টার্নার।
সাধারণ একটি নোটপ্যাড থেকে ছিঁড়ে নেওয়া তিনটি পাতার মধ্যে ছড়িয়ে ছিল মেসির বিদায়ী বার্তাটি।
সেখানে মেসি লেখেন, ফাইনালের পর এতদিন সময় অতিবাহিত হওয়ার পর, এবং অনেক চিন্তাভাবনা করার পর, আমি সবাইকে জানাতে চাই যে আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি...
এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর ছিল— এবং এখনও হৃদয়ের গভীরে কষ্ট দিচ্ছে—তবে আমি বুঝতে পারছি যে উপযুক্ত সময় এসে গেছে। আমি আপনাদের কাছে শপথ করে বলছি যে আমি সর্বদা আমার সেরাটা দিয়েছি— শুধু এই শেষ কয়েক বছরেই নয় যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, বরং তার আগেও; এই জার্সির জন্য, আপনাদের আনন্দ দিতে এবং ফুটবলের মাধ্যমে আর্জেন্টাইন হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে আমি সর্বদা লড়াই করেছি এবং মাঠে নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়েছি।
সময় দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে, অধ্যায়গুলো শেষ হয়ে আসছে, এবং এটি এমন একটি অধ্যায় যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবেসেছি, ভালোবেসে আসছি এবং সারাজীবন বেসে যাবো। আমার যা দেওয়ার ছিল তার সবই আমি দিয়ে দিয়েছি; আমার আর কিছু দেওয়ার বাকি নেই, তা ছাড়া দুর্দান্ত কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এই জায়গায় থাকার যোগ্য।
গত ২০ বছর ধরে আপনাদের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠ থেকে আপনাদের সেই গর্জন শোনাটা আমি খুব মিস করবো। এখন থেকে আমি হবো আপনাদেরই একজন, যে বাইরে থেকে দলের জন্য গলা ফাটাবে ও সমর্থন দিয়ে যাবে।
আমার পরিবারকে সবসময় পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ, এই যাত্রায় আমার সঙ্গী হওয়ার জন্য— যা ছিল যেমন সুন্দর, তেমনই কঠিন। প্রতিটি কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ যাদের সঙ্গে আমি এই পথ হেঁটেছি। আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি ও মুহূর্ত।
আমার সতীর্থদের সঙ্গে মিলে আপনাদের এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি যা আমরা একসময় কেবল স্বপ্নেই দেখতাম— সেই প্রশান্তি আর গর্ব নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি। আপনাদের সবার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া ছিল অবিশ্বাস্য। আমি আপনাদের ভালোবাসি।
আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। এগিয়ে যাও, আর্জেন্টিনা!
ফাইনালের দুই দিন পর, ২১ জুলাই আমি এই কথাগুলো লিখেছিলাম। আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটে গেলো, এরপর বলা যায় এ নিয়ে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।