বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে এবার নতুন করে পথচলার পালা ব্রাজিলের। সামনে ২০৩০ বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় দলে অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে নতুন দল গড়তে চান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ২০২৫ সালে আনচেলত্তিকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। ইতালিয়ান এই কোচের অধীনে চলতি বছরের বিশ্বকাপে শেষ ষোলো পর্যন্ত খেলেছে দলটি। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এখন থেকেই ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করতে চান তিনি।
আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল তৈরি করতে হবে। যারা আগের অভিযানে খেলেছে, তাদের পাশাপাশি এমন তরুণ খেলোয়াড়দেরও নিতে হবে, যারা দলে নতুন শক্তি আনতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা না হারিয়ে ভবিষ্যতের জন্য কিছু তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তরুণদের নিয়েও আলাদাভাবে কাজ করছে ব্রাজিল। আনচেলত্তির পরিকল্পনায় বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা সম্ভাবনাময় তরুণদের দেখছি। বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছি, কারণ ভবিষ্যতে জাতীয় দলকে কারা সাহায্য করতে পারে, সেটা জানতে চাই। তারা যখন প্রস্তুত হবে, তখন তাদের সুযোগ দিতে হবে।’
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিনটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচের পর ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে তারা। সেই লক্ষ্যে ঘোষিত ২৬ জনের স্কোয়াডে নতুন মুখ-ই ৮জন।
ফলে রূপান্তরের এই সময়ে দলটির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এখন আনচেলত্তির বড় চ্যালেঞ্জ। ২৪ বছর আগে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতার পর থেকে আর ফাইনালে উঠতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে নতুন চক্রের শুরুতেই শক্ত ভিত্তি গড়তে চান ইতালিয়ান কোচ।
তার কথা হচ্ছে, ‘আমাদের হাতে চার বছর সময় আছে। তাই ধৈর্য ধরতে হবে এবং ফিফা উইন্ডোগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে হবে। আমরা একসঙ্গে খুব বেশি সময় পাই না, তবে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা ও শক্তিশালী দল তৈরি করার জন্য যতটুকু সময় দরকার, তা আমাদের আছে।’
ব্রাজিলের এবারের স্কোয়াডে দেশটির ঘরোয়া লিগ থেকে জায়গা পেয়েছেন ১০ জন খেলোয়াড়। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন লিগে খেলছেন, সেটিকে গুরুত্ব দিতে চান না আনচেলত্তি। তার ভাষায়, ‘আমরা সব জায়গাতেই খেলোয়াড়দের দেখছি। তারা কোথায় খেলছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো তাদের শারীরিক অবস্থা, মান এবং জাতীয় দলকে তারা কী দিতে পারে।’