এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো নামটি হয়তো অনেকের কাছেই অপরিচিত। কিন্তু ‘পেলে’ নামটি উচ্চারণ করলেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক কিংবদন্তির ছবি। ব্রাজিলের ফুটবল সম্রাট, সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় পেলে ৮২ বছর বয়সে ইহকাল ত্যাগ করেছেন। তবে কীভাবে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো ‘পেলে’ হয়ে উঠেছিলেন? এই নামের পেছনে আছে মজার এক গল্প।
পেলে খুব অল্প বয়সেই ফুটবল বিশ্বে নিজের ছাপ ফেলেছিলেন। মাত্র ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী গোলদাতা হন তিনি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনি জিতেছেন তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা।
কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ার ও অসাধারণ ফুটবল প্রতিভাই পেলেকে খেলাটির সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন করে তুলেছিল। কিন্তু তার বিখ্যাত নামটি কীভাবে এলো, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে অনেকেরই।
পেলে জন্মগ্রহণ করেন ব্রাজিলের ত্রেস কোরাসোয়েস শহরে। তার পুরো নাম ছিল এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। বাবা ডনদিনহো ছিলেন ফ্লুমিনেন্সের ফুটবলার। তার আসল নাম ছিল জোয়াও রামোস দো নাসিমেন্তো। মা সেলেস্তে আরান্তেস।
পেলের প্রথম নামটি মূলত বিজ্ঞানী টমাস এডিসনের নাম অনুসরণ করে ‘এডিসন’ বানানে লেখা হয়েছিল। পরে তার বাবা-মা নামের বানান থেকে ‘আই’ বাদ দিয়ে ‘এডসন’ রাখেন। তবে জন্মসনদের একটি টাইপিং ভুলের কারণে বিভিন্ন নথিতে তার নাম ‘এডিসন’ হিসেবেও লেখা হয়েছিল। আর ‘পেলে’ নামটি আসে আরও ভিন্নভাবে।
ব্রাজিলের অনেক তারকা ফুটবলারই এক নামে পরিচিত- নেইমার, কাকা কিংবা পেলের মতো। তবে পেলের ডাকনামের উৎস নিয়ে বেশ কয়েকটি গল্প প্রচলিত থাকলেও সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য গল্পটি তার শৈশবের সঙ্গে জড়িত।
স্কুলজীবনে পেলে তার প্রিয় এক ফুটবলারের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারতেন না। সেই ফুটবলার ছিলেন গোলরক্ষক ‘বিলে’। যিনি ছিলেন পেলের বাবার সতীর্থ এবং ভাস্কো দা গামার হয়ে খেলতেন।
পেলে ছোটবেলায় ‘বিলে’ নামটি ভুল উচ্চারণ করে ‘পেলে’ বলতেন। সেই ভুল উচ্চারণই একসময় তার ডাকনামে পরিণত হয়। কিংবদন্তি ফুটবলার নিজেও তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘পেলে’ নামটির অর্থ কী, তা তিনি নিজেই জানতেন না। এমনকি তার শৈশবের বন্ধুরাও জানতো না।
কিন্তু স্কুলের সেই ভুল উচ্চারণ আর থামেনি। বরং ধীরে ধীরে ‘পেলে’ নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়। এরপর সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোকে গোটা বিশ্ব চিনেছে শুধু এক নামে। সেটা হচ্ছে পেলে!









