১০ গোলে হেরে কোচ বললেন, ‘এভাবে আপনি একটি দল গঠন করতে পারেন না’

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বড় হার নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার ব্যবধানটা যেন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেলো। এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর আলোচনায় শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ফিরেছে মাঠের বাইরের সেই পুরোনো প্রসঙ্গও। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ পিটার জেমস বাটলারের কথায় উঠে এলো খেলোয়াড়দের মাঝরাতে ফোন করা, কনফারেন্স কলসহ নানা বিষয়। তার সাফ কথা, ‘এভাবে আপনি একটি দল গঠন করতে পারেন না।’

তবে ১০ গোলের হারের দায় মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিজের কাঁধে নিয়েছেন বাটলার। যদিও মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডের দায় নিতে রাজি নন ইংলিশ কোচ।

হার যত বড়ই হোক, বাটলারের এই অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও দলের ব্যর্থতার পর ভেতর ও বাইরের হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলেছেন তিনি। 

বাটলারের ভাষায়, ‘আজ আমরা আমাদের সব নীতির বাইরে গিয়ে খেলেছি, যা আমাকে হতাশ করেছে। আর দুঃখজনকভাবে আমরা বড় ব্যবধানে হেরেছি এবং এটাই আমাদের প্রাপ্য ছিল। তবে মাঠের ভেতরের সবকিছুর পুরো দায় আমি নিচ্ছি। মাঠের বাইরের দায় আমি নিচ্ছি না।’

মাঠের বাইরের সেই জায়গাটিই পরে আরও পরিষ্কার করেছেন বাটলার। তার দাবি, দলের মধ্যে এখন সিনিয়র ও তরুণ দুটি আলাদা গ্রুপ তৈরি হয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার নীতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাটলার বলেছেন, ‘মাঠের বাইরে যা ঘটছে, তা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। মাঠের বাইরে কী হচ্ছে, তা তো আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। এখন তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল- হয়তো অনেক কিছুই। এমনকি নারী উইংয়ের প্রধানও আমার কাজের উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পছন্দ করেন না, যা আমাদের ভিন্ন এক আলোচনায় নিয়ে যায়।’

শুধু নীতিগত বিষয় নয়, খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠের বাইরের যোগাযোগ নিয়েও অভিযোগ করেছেন বাটলার। মাঝরাতে খেলোয়াড়দের ফোন করা কিংবা কনফারেন্স কলে যুক্ত করার মতো বিষয় সামনে এনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন দল গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে, ‘এভাবে আপনি একটি দল গঠন করতে পারেন না।’

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ১৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। উত্তর কোরিয়ার মতো আরেক শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশকে নিয়ে বাটলারও খুব বেশি আশাবাদ দেখাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচটিও হয়তো আজ আপনারা যা দেখেছেন তেমনই হতে যাচ্ছে। তবে আমাদের ফিরে যেতে হবে। দলে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে, পুনর্গঠন করতে হবে এবং দেখতে হবে এখান থেকে আমরা কীভাবে সামনে এগোতে পারি।’