ফিফা আসিয়ান কাপের বাংলাদেশ দল থেকে বাদ পড়েছেন প্রবাসী খেলোয়াড়দের অন্যতম সৈয়দ কাজেম শাহ। অথচ ক্যাম্পে ছিলেন তিনি। বাদ পড়ার পরদিন আজ শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এই ফুটবলার। জাতীয় দলের ক্যাম্পে কঠোর অনুশীলনের অভিজ্ঞতা, কোচ থমাস ডুলির সিদ্ধান্ত, আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
আসিয়ান কাপের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হতাশ কাজেম। তবে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাজেম বলেছেন, ‘এই ক্যাম্পটা অনেকটা প্রি-সিজনের মতো ছিল। দুই বেলা ট্রেনিং হয়েছে, কঠিন অনুশীলন হয়েছে। এখন ক্যাম্পে নেই বলে অবশ্যই কিছুটা হতাশ। কিন্তু একজন পেশাদার হিসেবে আমাকে এটা মেনে নিতে হবে। আমি কোচের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি এবং এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
হাভিয়ের কাবরেরার সময়ও জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলেন কাজেম। এবার থমাস ডুলির অধীনেও অনুশীলন করেছেন। দুই কোচের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে দুজনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘দুজনেরই ভিন্ন ভিন্ন আইডিয়া আছে। তবে তাদের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত বলতে চাই না। মানুষ হিসেবে দুজনই ভালো। দুজনের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। হয়তো সবসময় তাদের পরিকল্পনায় আমি খেলার জন্য ছিলাম না, কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে আমি তাদের সম্মান করি।’
দলে জায়গা না পেলেও আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী কাজেম। তার মতে, স্থানীয় ও নতুন খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে ভালো একটি দল তৈরি হচ্ছে, ‘অবশ্যই আমরা ভালো করতে পারবো। আমাদের ভালো একটি স্কোয়াড আছে। ভালো খেলোয়াড়রা আসছে, স্থানীয় খেলোয়াড়রাও ভালো আছে। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে ভালো প্রস্তুতি হচ্ছে। দুই বেলা অনুশীলনে ফিটনেসও আরও উন্নত হচ্ছে। আমাদের প্রতিপক্ষ অবশ্যই শক্তিশালী, কিন্তু একটা একটা ম্যাচ ধরে এগোতে হবে। আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে। প্রথম ম্যাচ মালয়েশিয়ার সঙ্গে। সেখানে ভালো ফল পেলে অবশ্যই আমরা ভালো করতে পারবো।’
কোচ থমাস ডুলির সঙ্গে নিজের উন্নতির বিষয়েও কথা হয়েছে কাজেমের। কোচের পরামর্শ মেনে নিজের ঘাটতিগুলো নিয়ে কাজ করতে চান তিনি, ‘কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে, আমাকে কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি তার মতামতকে সম্মান করি। প্রত্যেক কোচেরই নিজস্ব মতামত থাকে। আমি এগুলো নিয়ে কাজ করবো, আরও উন্নতি করার চেষ্টা করবো। এরপর দেখা যাক কী হয়।’
আসিয়ান কাপের দল থেকে বাদ পড়লেও জাতীয় দলের দরজা নিজের জন্য বন্ধ দেখছেন না কাজেম। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ঘরের মাঠে খেলার স্বপ্ন তার। সে জন্য ঘরোয়া ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করে আবার জাতীয় দলে ফেরার প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি, ‘আমার স্বপ্ন এখনো জাতীয় দলে খেলা। সবকিছু হয়তো আমার মনের মতো হচ্ছে না, কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়বো না। আবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। কোচ আমাকে যা বলেছেন, যেসব জায়গায় উন্নতি করতে হবে সেগুলোতে কাজ করবো। আশা করি, সাফের সময় আবার ইনশাল্লাহ দলে থাকতে পারবো।’
নতুন মৌসুমে আবাহনী ছেড়ে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দিয়েছেন কাজেম। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্লাবের হয়ে খেলতে পেরে রোমাঞ্চিত তিনি, ‘সবাই জানে বসুন্ধরা বাংলাদেশের সেরা ক্লাব। অনেক বছর ধরেই তারা সেরা। এখানে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের শীর্ষ খেলোয়াড় হওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, সব ধরনের সুবিধা আছে। বসুন্ধরায় সেগুলো রয়েছে। তাই এবার তাদের হয়ে খেলতে আমি রোমাঞ্চিত।’
আবাহনী ছাড়ার সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বসুন্ধরা কিংসের প্রস্তাব আসার পর নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন কাজেম, ‘সত্যি বলতে, আমি ভাবিনি যে আবাহনী ছাড়বো। কিন্তু বসুন্ধরা থেকে যখন সুযোগটা এসেছে, তখন সেটাই নিয়েছি।’
বসুন্ধরা কিংসে দেশি খেলোয়াড়দের গেম টাইম নিয়ে যে আলোচনা থাকে, সেটি নিয়ে অবশ্য খুব একটা চিন্তিত নন কাজেম। নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নেওয়ার বিশ্বাস তার, ‘আমি এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করছি না। সত্যি বলতে, বাংলাদেশে আসার পর কেউ আমাকে কিছুই প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পুলিশে যখন ছিলাম, কেউ বলেনি যে তোমাকে গেম টাইম দেবো। নিজের পারফরম্যান্স দিয়েই আমি স্টার্টার হয়েছি। এরপর আবাহনীতে গিয়েও কেউ কিছু প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সেখান থেকেই মাঠ থেকে শুরু করে নিজের নাম তৈরি করেছি। বসুন্ধরাতেও একই কাজ করতে চাই।’
বাংলাদেশে চার মৌসুম খেলেও এখনো কোনো শিরোপা জেতা হয়নি কাজেমের। বসুন্ধরা কিংসে যোগ দেওয়ার পর তাই তার ব্যক্তিগত লক্ষ্যও স্পষ্ট, ‘বসুন্ধরা চ্যাম্পিয়ন দল, সবাই সেটা জানে। অনেক বছর ধরে তারা চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে। আমার লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি শিরোপা জেতা। আবাহনীতেও আমার সেই ইচ্ছা ছিল, আমরা দ্বিতীয় হয়েছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি। এবার শিরোপা জেতাই আমার আকাঙ্ক্ষা। পাশাপাশি একজন খেলোয়াড় হিসেবে আরও ভালো হতে চাই।’









