বন্ধুকে হারিয়ে মেনিনজাইটিসের বিরুদ্ধে ভিন্ন লড়াই 

লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে যাওয়ার পথটা এবার শুধু ফুটবলের টানে নয়, একটি মহৎ উদ্দেশ্যেও। যেমনটা করছেন শন ম্যাকেনটি। বন্ধুর মৃত্যুর পর মেনিনজাইটিস বি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ১০০ মাইল দৌড়ে অ্যানফিল্ডের পথে ছুটছেন ইংল্যান্ডের উরচেস্টারশায়ারের এই তরুণ। লক্ষ্য- মেনিনজাইটিস নিয়ে মানুষকে সচেতন করার দাতব্য কাজের জন্য পাশাপাশি ৫ হাজার পাউন্ড তোলা।

বুধবার সকালে কিডারমিনস্টার হ্যারিয়ার্স এফসির অ্যাগবরো স্টেডিয়াম থেকে দৌড় শুরু করেছেন শন। অথচ গত বছরই প্রথমবারের মতো হাফ ম্যারাথন শেষ করেছিলেন তিনি। সেখান থেকে এবার একলাফে ১০০ মাইলের চ্যালেঞ্জ।

পরিবারের বন্ধু ও লিভারপুলের সমর্থক অ্যারন মিলসের মৃত্যুই শনকে এই উদ্যোগে নামতে অনুপ্রাণিত করেছে। গত জানুয়ারিতে কিডারমিনস্টারে লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার বিরতিতে থাকা অবস্থায় মেনিনজাইটিসে মারা যান অ্যারন।

কঠিন এই দৌড় শেষ করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শন। তিনি বলেছেন, ‘আমি কোনও না কোনোভাবে শেষ করবো। আমাকে এত মানুষ সমর্থন করছেন, এত মানুষ পাশে আছেন। আমি না পারলে তাদের অনেককেই হতাশ করবো।’

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের নিয়মিত মেনিনজাইটিস বি টিকা দেওয়া হলেও অ্যারনের বয়সী প্রজন্ম সেই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ছিল না।

অ্যারনের মৃত্যুর পর তার বাবা অ্যান্থনি ও মা ডেনিজ বাদ পড়াদের বয়সভিত্তিক টিকাদান কর্মসূচির দাবিতে প্রচার শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় জুনে সরকার এককালীন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়, যার আওতায় প্রায় ১০ লাখ তরুণ-তরুণীকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়।

অ্যানফিল্ডের পথে শুধু দৌড়াবেন না শন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থেমে মেনিনজাইটিস নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তাও দেবেন। তার পথের তালিকায় রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, শপশায়ারের হার্পার অ্যাডামস ইউনিভার্সিটি, ন্যান্টউইচের রিসিহিথ কলেজ অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার এবং ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরছেন শন। তিনি বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে। আর অ্যারনও একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। আমি সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের কাছে যতটা সম্ভব সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।’