গোলের জন্য মরিয়া ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সুযোগও পেয়েছিলেন একের পর এক। কিন্তু কিছুতেই গোল পেলেন না পর্তুগিজ মহাতারকা। এমনকি একবার বল জালে পাঠিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি—অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে গোল। রোনালদোর এমন হতাশার রাতেও অবশ্য জয় দিয়ে নেশনস লিগের অভিযান শুরু করেছে পর্তুগাল। জোয়াও ফেলিক্সের গোলে ওয়েলসকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
লিসবনের জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল পর্তুগাল। রোনালদোও ছিলেন বেশ সক্রিয়। প্রথমার্ধেই গোল করার চারটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়েছেন ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
২২ মিনিটে অবশ্য রোনালদোর হতাশার মাঝে স্বস্তি এনে দেন ফেলিক্স। নুনো মেন্দেসের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। ওয়েলস অধিনায়ক বেন ডেভিসের গায়ে লেগে বলের গতিপথ বদলে যায়। তাতেই বিভ্রান্ত হন গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড, বল জড়িয়ে যায় জালে।
বিরতির পরও গোলের জন্য ছুটছিলেন রোনালদো। ৫৬ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তও যেন এসেছিল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস ধরে বল জালে পাঠান তিনি। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনও করেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ভেস্তে যায় সব আনন্দ। ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রোনালদো। রুবেন নেভেসের ক্রস থেকে ছয় গজের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়েছিলেন। কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৬৭ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। গ্যালারি থেকে অবশ্য করতালিই পেয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
রোনালদোর গোল না পাওয়া নিয়ে যখন আলোচনা, ওয়েলস ততক্ষণে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রেনান জনসনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শেষ দিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও পর্তুগালের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি ওয়েলস।
ফলে রোনালদোর গোলহীন রাতেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল। এক গোলের এই জয় দিয়েই নেশনস লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু করল তারা।