মেসির বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনে জোর চেষ্টা চালান স্ক্যালোনি

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়ের মঞ্চটা যেন ঠিকঠাক হয় এ জন্য কম চেষ্টা করেননি লিওনেল স্ক্যালোনি। আর্জেন্টিনার কোচ নিজেই জানিয়েছেন, মেসি অবসর ঘোষণার পর দ্রুতই তাকে আরেকবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরাতে জোর চেষ্টা চালান তিনি। 

আগস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। এর মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময় আগে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা।

অবসর ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পরই অবশ্য স্ক্যালোনির দলে ডাক পান মেসি। বেনিনের বিপক্ষে একটি ঘরের মাঠের প্রীতি ম্যাচে শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার কথা রয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার। আগামী ৬ অক্টোবর বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে নিজের ভূমিকার কথা জানান স্ক্যালোনি। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তার মতো একজন খেলোয়াড় এটা পাওয়ার যোগ্য। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজের কাজটা করেছি, কারণ আমি চেয়েছিলাম তার বিদায়ের সময় সেখানে থাকতে।’

স্ক্যালোনির নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনার সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তাই পরবর্তীতে জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন কি না, সেটি নিশ্চিত না হওয়ায় মেসির বিদায়টা দ্রুত আয়োজন করতে চেয়েছেন তিনি। স্ক্যালোনি বলেন, ‘যেহেতু আমি জানি না পরে এখানে থাকবো কি না, তাই আমরা জোর চেষ্টা চালিয়েছি, যাতে সে এই ম্যাচটিতে থাকতে পারে। আমরা জানতাম, সে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো। তারপরও মানুষের সামনে, যারা তাকে এত ভালোবাসে, তাদের সামনে এসে বিদায় জানানোর জন্য সে ইচ্ছা ও চেষ্টা দেখিয়েছে।’

মেসির মতো খেলোয়াড়কে সম্মান জানানোর সঠিক সময় এখনই বলেও মনে করেন স্ক্যালোনি, ‘যদি আমাদের তাকে সম্মান জানাতেই হয়, তাহলে এই মুহূর্তেই সেটা করতে হবে। তার ক্ষেত্রে এটি কখনোই থামবে না। তবে পরে হয়তো এই জাদুটা আর একই রকম থাকবে না।’

স্ক্যালোনির অধীনেই ২০২২ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তার কোচিংয়ে দুটি কোপা আমেরিকাও জিতেছে দলটি। তবে এত সাফল্যের পরও জাতীয় দলের সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ এখনো নিশ্চিত নয়।

৪৮ বছর বয়সী এই কোচকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি, ‘এটা স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাকে চিরকাল এই চাকরির সঙ্গে আঁকড়ে থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সভাপতির সঙ্গে আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এরপর দেখা যাবে আমরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি কি না।’