রোনালদোর এমন রূপ আগে দেখেননি কেউ

সৌদি আরবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর আগমন বদলে দিয়েছিল ফুটবলের চিত্র। তবে মাঠের বাইরেও যে তার প্রভাব কতটা বড় হতে পারে, সেটিই এবার সামনে আনলেন সাবেক সতীর্থ আলভারো গনসালেস। আল-নাসরে বেতন না পাওয়ার জটিলতায় পড়া খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়ে রোনালদো যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার বর্ণনা দিয়েছেন সাবেক স্প্যানিশ ডিফেন্ডার।

রিয়াদে আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর নিজের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গনসালেস। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে রোনালদো সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর কয়েক মাস আগে সেখানে গিয়েছিলেন সাবেক এই স্প্যানিশ সেন্টারব্যাক। গনসালেস জানিয়েছেন, ক্লাবে নিজের প্রথম ছয় মাস তাকে বেতন ছাড়াই কাটাতে হয়েছিল।

২০২৬ সালের আগস্টের শুরুতে ৩৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন গনসালেস। ইউরোপের ফুটবল ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি দেওয়ার শুরুর সময়ের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা এবার প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

সাবেক এস্পানিওল ও ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে ছয় মাস বেতন ছাড়াই ছিলাম। সৌদি আরবে আমার সময়ের প্রথম কয়েক মাস এমন একটি ক্লাবে কেটেছে, যেটি আল-হিলালের সঙ্গে দেশটির সেরা ক্লাবগুলোর একটি। একটি ম্যাচে ৭০ হাজার দর্শকও হতে পারে। আমি খুব একটা চিন্তিত ছিলাম না, কারণ ফুটবলে ১৪ বছর কাটিয়ে কিছু অর্থ সঞ্চয় করেছিলাম। কিন্তু আমি সেখানে গিয়েছিলাম অর্থ উপার্জন করতে।’

বিষয়টি অবশ্য পরে আরও বড় আকার নেয়। ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের বেতন নিয়ে জটিলতার খবর রোনালদোর কানেও পৌঁছায়। এরপরই সতীর্থদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি সামনে রেখে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন পর্তুগিজ তারকা।

গনসালেসের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি সরকারের কাছ থেকে নিজের প্রথম বেতন পাওয়ার কথা ছিল রোনালদোর। কিন্তু সতীর্থদের পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত নিজের সেই অর্থ নিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

গনসালেস বলেন, ‘‘সে পরিস্থিতির কথা জানতে পেরেছিল। সরকারের পক্ষ থেকেই তাকে বেতন দেওয়ার কথা ছিল। তখন সে বলেছিল, তার প্রথম বেতন যেটা মোটেও ছোট অঙ্কের ছিল না, সেখান থেকে প্রথম কাজ হিসেবে খেলোয়াড়দের বেতন দিতে হবে। আমাদের কয়েকজন তখনও বেতন পায়নি, সবাই অবশ্য নয়। সে বলেছিল, ‘এই মানুষগুলো বেতন না পাওয়া পর্যন্ত...।’’

এরপরই রোনালদোর সেই অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গনসালেস বলেন, ‘তাকে এটা করতে হতো না। কিন্তু ক্রিস্টিয়ানো সেটা করেছিল।’