হামজা-রাকিবকে অনুসরণ করে সিঙ্গাপুর বধের ছক ডুলির

মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে ফিফা আসিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে শুরুতেই ব্যাকফুটে বাংলাদেশ। এবার সামনে সিঙ্গাপুর। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৪৮ নম্বরে থাকা দলটির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প দেখছেন না কোচ থমাস ডুলি। সোমবার জাকার্তা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে তিন পয়েন্টই লক্ষ্য বাংলাদেশের। আর সেই লক্ষ্যে দলের বাকি খেলোয়াড়দের হামজা চৌধুরী ও রাকিব হোসেনকে অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন ডুলি।

বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর দুই দলই প্রথম ম্যাচে হেরেছে। ফলে সোমবারের ম্যাচটি দুই দলের জন্যই টিকে থাকার লড়াই। এর আগে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সর্বশেষ দুইবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা। দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল সিঙ্গাপুর।

আগের দুই ম্যাচের ফল জানা থাকলেও ডুলি মনে করছেন, লড়াইটা ছিল সমানে সমান। রবিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘গত দুইবারের ম্যাচই খুব হাড্ডাহাড্ডি ছিল। দুবারই সিঙ্গাপুর জিতেছিল। কিন্তু আমি যখন খেলোয়াড়দের, সমর্থকদের এবং মিডিয়ার কথা শুনি, তখন মনে হয় ওই দুই ম্যাচে আমরাও জিততে পারতাম। অর্থাৎ, দুটো দলই প্রায় সমান অবস্থানে ছিল।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এবার অবশ্য ভিন্ন মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চান ডুলি। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ইতোমধ্যে বলেছি, আমাদের ভিন্ন মানসিকতা এবং ভিন্ন মনোভাব নিয়ে খেলতে হবে। আমি ম্যাচটি জিততে চাই, এ নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। আমাদের ওপরে র‍্যাঙ্কিংয়ে কতগুলো দল আছে, সেটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না। আমাদের ফুটবল খেলতে হবে।’

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের ভুলগুলোও ভুলে যাননি জার্মান-আমেরিকান কোচ। ওই ম্যাচে নিজেদের ভুলেই প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনও তাকে পোড়াচ্ছে। ডুলির ভাষায়, ‘মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আমরা যেটা করতে পারিনি, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি রাগিয়েছে। আমরা তাদের কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি এবং নিজেদের ভুলের কারণে যে সুযোগগুলো তাদের উপহার দিয়েছি, তারা সেগুলো কাজে লাগিয়েছে। সবাই জানে, মালয়েশিয়া অসাধারণ এবং ভালো একটি দল। কিন্তু এমনটা হওয়া উচিত নয়।’

কেন এমন হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ৬৫ বছর বয়সী কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা মিডফিল্ডকে আঁটসাঁট রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলবোই না। আমরা অনেক বেশি পেছনে চলে গিয়েছিলাম। সবাই যেন অন্য সতীর্থের ওপর চাপটা দিয়ে দিচ্ছিল- “তুমি যাবে, নাকি আমি যাবো?” এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমাদের প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসী হতে হবে, বলের বিরুদ্ধেও আরও আগ্রাসী হতে হবে।’

মালয়েশিয়ার কাছে হারের হতাশার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখছেন ডুলি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল অন্তত চার পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচে হেরে সেই হিসাব এখন আর মেলানো সম্ভব নয়। তবে তিন পয়েন্ট এখনও পাওয়ার সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি।

ডুলি বলেছেন, ‘তারপরও আমরা শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলছি। কৌশলগতভাবে আমাদের ভিন্ন পদ্ধতি নিতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল এই টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত চার পয়েন্ট পাওয়া। এখন আর সেটা সম্ভব নয়। তবে আমরা তিন পয়েন্ট পেতে পারি এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট পেতে দলের অন্যদের হামজা ও রাকিবের লড়াইয়ের মানসিকতা অনুসরণ করতে বলেছেন ডুলি। বিশেষ করে বলের জন্য তাদের আগ্রাসনকে উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছেন তিনি।

ডুলির ভাষায়, ‘আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, অ্যাটিটিউড বা মাইন্ডসেট বলতে কী বোঝায় সেটা যদি না বোঝো, তাহলে হামজা যখন ওয়ান-অন-ওয়ান লড়াইয়ে যায়, তখন দেখো সে কীভাবে ডিফেন্ড করে। ডিফেন্ড করার সময় তার শরীরী ভাষা কেমন, সেটা দেখো। রাকিব যখন বলের দিকে যায়, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে যায়, তখন সে কতটা পরিশ্রম করে, সেটা দেখো। এটা অসাধারণ।’

তবে মাঠে সহজ ভুল করার মানসিকতা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে সতর্ক করেছেন ডুলি। তিনি বলেন, ‘আর যদি দেখি কেউ শুধু মাঠে হাঁটছে, কোনও চাপ ছাড়াই ভুল করছে, অথবা চারপাশ স্ক্যান করছে না, তাহলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। আমরা গত তিন-চার সপ্তাহ ধরে, তারও আগে কয়েক মাস ধরে, বারবার বলে আসছি, মাঠ স্ক্যান করতে হবে, একে অপরের সঙ্গে ফুটবল খেলতে হবে। কিন্তু শেষ ম্যাচে আমরা সেটা দেখিনি।’