বিশ্বকাপের পর মেসিবিহীন আর্জেন্টিনার চার গোলে জয়, কী বললেন কোচ

বিশ্বকাপ-পরবর্তী প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনা  ৪-০ ব্যবধানে বলিভিয়াকে হারিয়েছে। জেতার পর সংবাদ সম্মেলনে লিওনেল স্কালোনি আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

লিওনেল মেসিকে ছাড়া একই ধারায় খেলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন স্কালোনি। পাশাপাশি বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হয়ে কী কথা হয়েছিল, সেটির কিছু বিবরণও প্রকাশ করেন।

স্কালোনি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রথম যে আলোচোনাটি আমাদের হয়েছিল, সেখানে আমি আমার মতামত দিয়েছিলাম। এটি কাতার বিশ্বকাপের পর আমরা যে আলোচনা করেছিলাম তার মতোই ছিল; যেখানে আমি তাদের বলেছিলাম যে আমরা জিতেছি এবং আমাদের এটি বজায় রাখতে হবে।’

সেই শিরোপা জেতার পর খেলোয়াড়দের যা বলেছিলেন তা ব্যাখ্যা করে তিনি যোগ করেন, ‘আমাদের প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাওয়া এবং একই ধারায় পথ চলা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’

‘এখনও আমি তাদের একই কথা বলেছি—যে ফলাফল আমরা চেয়েছিলাম তা না পেলেও, আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে,’ বলেন স্কালোনি। এই প্রক্রিয়ায় যারা এগিয়ে যেতে চেয়েছেন সেই খেলোয়াড়দের নিয়ে তিনি ‘গর্বিত’ বলে জানান এবং প্রকাশ করেন, ‘যাদের এখানে থাকার ইচ্ছা ছিল না, তারা তা খোলাখুলি বলতে পারতেন, এতে কোনও সমস্যা ছিল না।’

‘আমরা প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাব, তারপর বল জালে জড়াবে কি জড়াবে না (সেটি ভিন্ন কথা),’ যোগ করেন জাতীয় দলের এই কোচ। 

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স-আপ হওয়ার পর দলের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে কী ঝুঁকি রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনি কখনোই ঝুঁকির কথা ভাবেন না; বরং আপনি ভাবেন এটি কতটা দারুণ একটি বিষয়—এই ছেলেদের খেলতে দেখা এবং তাদের মাঠে নামতে দেখার অনুভূতিটা অসাধারণ।’

স্কালোনি পরবর্তী মেসি-পরবর্তী যুগ নিয়েও কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রোজারিওর এই তারকা ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ এবং মূল চ্যালেঞ্জ হলো লিও মাঠে না থাকলেও একই কৌশলে খেলা চালিয়ে যাওয়া।

‘আমরা বল আদান-প্রদান করে এবং পজেশন ধরে রেখে একই মানসিকতায় খেলার পথ খুঁজে নেব... এটি এমন একটি পরিচয় যা কে দলে আছে বা নেই তার ওপর নির্ভর করে না। দলের এই নিজস্ব পরিচয়টা স্থির রয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো, এভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়া এবং যারা নতুন আসছে তাদের এটি বোঝানো যে আমরা এভাবেই খেলি। বলকে কেন্দ্র করেই সবসময় আমাদের খেলার মূল সত্ত্বা তৈরি হয়। আসল চ্যালেঞ্জ হলো একই ধারা বজায় রাখা,’ বলেন তিনি।

কর্ডোবার প্রীতি ম্যাচের পর কোনও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে চাওয়া হলে, স্কালোনি ব্যক্তি-খেলোয়াড়ের চেয়ে পুরো দল এবং বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের প্রশংসা করাকে প্রাধান্য দেন।

‘এই জার্সিতে খেলার সময় যেভাবে দৃষ্টিভঙ্গি থাকা উচিত, ছেলেরা সেভাবেই ম্যাচটিকে নিয়েছে। প্রত্যেকেই নিজের সেরাটা দিতে চায়। ফলাফলের ঊর্ধ্বে গিয়ে আমি খুশি, কারণ এটা স্পষ্ট ছিল যে দলের একটি নিজস্ব পরিচয় আছে এবং যে-ই খেলুক না কেন, আমরা তা ধরে রাখব,’ মন্তব্য করেন কোচ।

‘দল একটি পূর্ণাঙ্গ ম্যাচ খেলেছে, যেভাবে তারা ম্যাচটি খেলেছে তা আমার পছন্দ হয়েছে—বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছে তাদের কথা বলতে হয়। আমার মতে, ম্যাচ খেলার এর চেয়ে ভালো কোনো উপায় হতে পারে না। এই জার্সির ইতিহাসের প্রতি সম্মান রেখেই এভাবেই খেলা উচিত,’ যোগ করেন তিনি।

‘আমি প্রত্যেকের পারফরম্যান্স পছন্দ করেছি। আমি আলাদাভাবে কারও নাম বলতে চাই না, বিশেষ করে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের—তারা যেভাবে ম্যাচটিকে নিয়েছে। তারা এসে শিথিল বা হালকা মেজাজে থাকতে পারতো, কিন্তু কাজটা এভাবে হয় না। তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এটা দেখা খুব ভালো দিক; আমি যা বলতে পারি তার চেয়ে তাদের এই উদাহরণ অনেক বেশি কার্যকর। যতদিন সিনিয়ররা এভাবে ম্যাচ খেলবে, ততদিন আমাদের বাকিদেরও পিছন পিছন এগিয়ে যেতে হবে,’ শেষ বলেন তিনি।

নতুনদের নিয়ে কী বললেন

স্কালোনি আশ্বাস দিয়ে বলেন যে, তার দায়িত্বে থাকার বিষয়ে গতকাল থেকে নতুন কিছু পরিবর্তন হয়নি। তিনি স্বীকার করেন যে, ‘আমরা দেশের ভেতরের স্টেডিয়ামে খেলার চেষ্টা করব,’ যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, ‘রিভার প্লেটের স্টেডিয়ামে যা হয় তা হলো দর্শকরা প্রচুর সংখ্যায় আসে, আমরা জানি সেটা কেমন পরিবেশ তৈরি করে।’

তিনি আরও জানান, দলের কৌশলগত সিস্টেম পরীক্ষা করার চেয়ে নতুন খেলোয়াড়দের পরখ করে দেখাই তাদের মূল লক্ষ্য। দল নির্বাচনে তার সুযোগগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘এত বেশি বিকল্প থাকা কোনও সমস্যা নয়, এটি তো গর্বের বিষয়। আমরা এটাই চাই—পছন্দ করার জন্য যেন একটা বড় তালিকা থাকে। আসল সমস্যা তো তখন হবে যখন চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে হবে। তবে পরিস্থিতি এমন হওয়াটাই ভালো।’

সবশেষে স্কালোনি তার মেয়াদে অভিষেক হওয়া নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে কথা বলেন। রোমান ভেগা, এজেকিয়েল ফার্নান্দেজ, ভ্যালেন্টিন গোমেজ, সান্তিয়াগো সিমন এবং লিওনেল ফ্লোরেসের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তার অধীনে অভিষেক হওয়া খেলোয়াড়দের সংখ্যা ৭০-এ পৌঁছালো।

‘আমি মনে করি যেকোনও কোচের জন্যই কোনও খেলোয়াড়কে অভিষেক করানো রোমাঞ্চকর, আর জাতীয় দলের কোচের জন্য তো এটি আরও বিশেষ। তরুণদের মাঠে নামার মুহূর্তের মুখগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় এই জার্সি গায়ে দেওয়ার অনুভূতি কতটা বিশেষ এবং এখানে পৌঁছাতে কতটা চেষ্টা করতে হয়। তারা সত্যিই ভাগ্যবান। আমাদের জন্য তাদের এই সুযোগ দিতে পারাটা সম্মানের এবং এটাই তার উপযুক্ত সময়,’ জোর দিয়ে বলেন স্কালোনি।