ইংলিশ ফুটবলে উজ্জ্বল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ ফুটবলার ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংলিশ ক্লাব ফুলহাম একাডেমির বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ফুটবলার। স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ জনি হেইনস ট্রফি।
একাডেমিতে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ফারহানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়। এই সপ্তাহের শুরুতে মোটসপুর পার্কে ফুলহামের অনুশীলন গ্রাউন্ড গিয়ে ফুলহাম সাপোটার্স ট্রাস্টের কাছ থেকে পুরস্কারটি নেন তিনি।
এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত ১৯ বছর বয়সী ফুটবলার কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামা ও গোল করার অভিজ্ঞতাকেও নিজের ক্যারিয়ারের গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন তিনি।
ফুলহামের ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারহান বলেছেন, সতীর্থদের ভোটে এই পুরস্কার জেতা তার কাছে বিশেষ কিছু, ‘এই পুরস্কারের জন্য সতীর্থদের ভোটে নির্বাচিত হওয়াটা অসাধারণ। এটা খুবই তৃপ্তির অনুভূতি। গত মৌসুমে ভালো ও কঠিন দুই ধরনের মুহূর্তই ছিল। তবে দল হিসেবে সতীর্থদের ছাড়া আমি এটা করতে পারতাম না। তারাই মানদণ্ড ঠিক করে, আমাকে আরও ভালো করতে তাগিদ দেয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে রাখে। এসবই আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করেছে।’
এই ট্রফির আগের বিজয়ীদের নামের তালিকা দেখেও রোমাঞ্চিত ফারহান। গত মৌসুমের স্মরণীয় মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে ওয়াইকোম্বের বিপক্ষে নিজের গোল এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে জোড়া গোলের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। ফারহানের ভাষায়, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনূর্ধ্ব-২১ দলের বিপক্ষে সেটাই সম্ভবত আমার সেরা পারফরম্যান্স ছিল।’
এদিকে ফারহান ফুলহাম থেকে গত আগস্টে ধারে যোগ দেন ইংলিশ ফুটবলে পঞ্চম স্তরে খেলা ক্লাব বোরহাম উডে। সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা উপভোগ করছেন তিনি। এই অভিজ্ঞতাকে নিজেকে প্রমাণের দারুণ সুযোগ মনে করছেন এই তরুণ। ফারহান বলেছেন, ‘এখানে অভিজ্ঞতা দারুণ। আমি খুব উপভোগ করছি। পুরুষদের ফুটবল ভালো একটা পরীক্ষা। এখানে খেলার গতি, শারীরিক লড়াই সবকিছুই আলাদা। পুরুষদের ফুটবলে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এটি দারুণ সুযোগ।’
বয়সে বড় ও অভিজ্ঞ সতীর্থদের কাছ থেকেও শিখছেন তিনি, ‘আমার সতীর্থরা বয়সে বড় এবং তাদের অনেক অভিজ্ঞতা। এটা আমাকে সাহায্য করছে। আমি এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি।’
বোরহ্যাম উডের মৌসুমের লক্ষ্যও স্পষ্ট। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী ফারহান চান লিগ শিরোপা জিততে অবদান রাখতে। তার কথায়, ‘এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, আমরা হারব না। দলের মধ্যে বোঝাপড়া, খেলার তীব্রতা এবং আমাদের খেলার ধরন সবকিছুই ঠিকঠাক আছে। লিগ জেতাই আমাদের বড় লক্ষ্য। আমি শুধু সেই লক্ষ্যে অবদান রাখতে চাই।’
বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার খেলতে নেমেও দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে ফারহানের। জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামাকে নিজের ও পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোল করাটাও তার কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে আছে, ‘দেশের হয়ে খেলতে পারাটা আমার জন্য অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। এটা আমার ও আমার পরিবারের জন্য গর্বের মুহূর্ত। গোল করে অবদান রাখতে পেরে আমি আনন্দিত।’
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের সামনে গোল করেছিলেন তিনি। গ্যালারির পরিবেশ সেই অভিজ্ঞতাকে আরও বিশেষ করে তুলেছিল বলে জানিয়েছেন ফারহান। সামনে বাংলাদেশের মাটিতে পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতির ম্যাচগুলো খেলতে মুখিয়ে আছেন তিনি। এরই মধ্যে সেসব ম্যাচ সামনে রেখে অনেক বার্তা পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন এই তরুণ ফুটবলার।