মেসি সবসময় নিজের মাতৃভাষাতেই কথা বলেন। যেখানেই গেছেন শুধু স্প্যানিশ ভাষাতেই বক্তব্য রাখেন। অন্য ভাষার প্রয়োজন হলে প্রায়ই দোভাষীর সাহায্য নিতে হতো তাকে। মেসি নিজেও স্বীকার করেছেন, একটা সময় ইংরেজি শেখার সুযোগ থাকলেও তা শেখেননি।
মেক্সিকান পডকাস্ট ‘মিরো দে আত্রাস’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেছেন, ‘আমার অনেক কিছু নিয়েই অনুশোচনা আছে। বিশেষ করে ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখার বিষয়টা। অন্তত ইংরেজিটা শেখার মতো যথেষ্ট সময় আমার ছিল, কিন্তু আমি তা করিনি। এর জন্য আমার সত্যিই খুব আফসোস হয়।’
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে মেসি স্বীকার করেন, ইংরেজি ভাষা না জানার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে না পারায় তার হৃদয়ে এক গভীর অনুশোচনা কাজ করে।
মেসি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি যেখানে অনেক বিখ্যাত ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছিল। তাদের সঙ্গে খুব চমৎকার আড্ডা দেওয়া যেত, কিন্তু ভাষা না জানার কারণে নিজেকে কেমন যেন অর্ধেক-মূর্খ মনে হতো! আমি সবসময় ভাবতাম-ইশ, আমি কী বোকা! সময়টা কীভাবে নষ্ট করলাম! তরুণ বয়সে এসব মাথাতেই আসে না। আজ আমি আমার সন্তানদেরও এটাই বলি-একটি ভালো শিক্ষা পাওয়া, পড়াশোনা করা এবং নিজেকে প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব কতখানি।’
নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে মেসি এখন তার সন্তানদের ইংরেজি শিখতে উৎসাহ দিচ্ছেন। ‘এলএম টেন’ আরও যোগ করেন, ‘আমি সবসময় আমার সন্তানদের বলি এই সুযোগগুলোর পুরো সুবিধা নিতে। আমার ছোটবেলার পরিস্থিতির চেয়ে ওদের বর্তমান পরিস্থিতি অনেক আলাদা, যদিও সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমার কোনো কিছুরই অভাব ছিল না...।’
আর্জেন্টিনায় স্কুলের শেষ বছরটা একেবারে বিপর্যয়কর ছিল বলে স্বীকার করেন মেসি, ‘আমি জানতাম যে আমি (বার্সেলোনার উদ্দেশ্যে) দেশ ছাড়ছি। পরে বার্সেলোনায় গিয়ে লা মাসিয়া (বার্সার যুব একাডেমি)-র অন্য বাচ্চাদের সঙ্গেই আমি আমার হাইস্কুলের পড়ালেখা শেষ করি।’
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কিংবদন্তি বলেন, ‘আমি ফুটবল জগতে সব অর্জন করতে পেরেছি এবং একদম চূড়ায় পৌঁছেছি; কিন্তু এই পথচলায় অসংখ্য অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটা সত্যি যে ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি জীবনধারা। এটি আপনাকে অনেক কিছু শেখায়, মূল্যবোধ জোগায় এবং আজীবনের বন্ধন তৈরি করে দেয়। এর বদৌলতে বিশ্বের নানা প্রান্তকে জানার সুযোগ হয়।’