ব্রাজিলে কোচিং লাইসেন্স কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন ম্যারাডোনার সাবেক সহকারী 

ম্যারাডোনার প্রাক্তন সহকারী কোনও পড়াশোনা ছাড়াই ২০ হাজার ডলারের বিনিময়ে কোচিং সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তিনি শুধু প্রাক্তন খেলোয়াড়দের আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশনের সাথে যোগাযোগের সুযোগ করে দেন।

বিনা ক্লাসে মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়ে লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল কোচ অ্যাসোসিয়েশনের ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একাধিক প্রাক্তন ফুটবলারের কাছে। ব্রাজিলে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার পর অবশেষে নীরবতা ভেঙে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন বোকা জুনিয়র্সের প্রাক্তন খেলোয়াড় এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার প্রাক্তন সহকারী আলেহান্দ্রো মানকুসো।

‘সার্টিফিকেশন মাফিয়া’ সম্পর্কিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মূল সাংবাদিক এবং  প্রতিনিধি জোয়ানা দে আসিসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মানকুসো কোনও খেলোয়াড়কে না পড়িয়ে সার্টিফিকেট দেওয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: “না, জোয়ানা। আমি সর্বোচ্চ যে সাহায্য করতে পারি তা হলো— ফেডারেশনের লোকজনের সাথে সরাসরি যোগাযোগের পথ করে দেওয়া।” 

বিষয়টি আরও ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমি কেবল এইটুকুই সাহায্য করি। কেন জানেন? কারণ তাদের প্রায় কেউই স্পেনীয় ভাষা বলতে পারে না, তারা পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, লিগ্যাল ডিপার্টমেন্ট বা পাবলোকে ফোন করে বলি, ‘পাবলো, এখানে দুজন ব্রাজিলিয়ান আছেন যারা অনলাইনে তাদের লাইসেন্স নিতে চান, এই বিষয়গুলো আরকি।’ তখন তারা আমাকে বলে, ‘তাদের পাঠাও, তাদের অমুক ঠিকানায় ইমেইল পাঠাতে বলো…’ যেন তারা সব ফর্ম পূরণ করতে পারে, বুঝতে পেরেছেন? এরপর অনলাইন ক্লাস কবে শুরু হবে এবং সরাসরি ক্লাস কবে হবে, সেই তারিখগুলো তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এর পরের বিষয়টি পুরোপুরি তাদের ওপর নির্ভর করে। আমি আর এর মধ্যে জড়াই না, বুঝতে পেরেছেন?”

প্রতিবেদনের অন্য এক অংশে সাংবাদিক উল্লেখ করেন যে, দুই বছর আগে এক ফুটবলার তাকে মানকুসোর একটি মেসেজের স্ক্রিনশট পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মানকুসো নাকি ২০,০০০ ডলারের বিনিময়ে এ বি সি ও প্রো লাইসেন্স দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রাক্তন এই মিডফিল্ডার সঙ্গে সঙ্গেই তা অস্বীকার করেন, “না, এমন কিছুর কোনো অস্তিত্বই নেই।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “আর্থিক সব লেনদেনের বিষয়টি ইমেইলে সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় ফেডারেশনের লোকজনের সাথে সরাসরি ঠিক করতে হয়। এর একটি নির্দিষ্ট মাসিক ফি বা কিস্তি রয়েছে।”

মানকুসোর মাধ্যমে যারা লাইসেন্স পেয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, সেই তালিকায় রয়েছেন থিয়াগো সিলভা, পাউলিনহো, অ্যালেক্স দে সুজা, লুইজ গুস্তাভো, দিয়েগো লুগানো, পাওলো গেরেরো, রবার্তো কার্লোস, ফেলিপে মেলো এবং পেতকোভিচের মতো তারকা ফুটবলাররা। প্রথম তিনজনের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় তা অস্বীকার করে বলেন, “না। না, না, না। এসবের সবকিছুই সরাসরি ফেডারেশন থেকে সামলানো হয়। এর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা যদি প্রক্রিয়াটি জানতে চায়, আমি কেবল পথ দেখিয়ে দিই। ব্যাস এটুকুই।”

মানকুসোর নিজের পক্ষে যুক্তি দেওয়া সত্ত্বেও, বেশ কয়েকজন প্রাক্তন খেলোয়াড় এখনও দাবি করছেন যে তারা কোনও পড়াশোনা ছাড়াই লাইসেন্স কিনেছেন। মানকুসো অবশ্য এই বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে বলেন: “ওটা তাদের বিষয়, তাই না? এটা তাদের সমস্যা। সিস্টেমে প্রবেশ করার দায়িত্ব তাদেরই। তারা যদি এএফএ-তে পড়াশোনা করতে চায়, তবে তাদের ইমেইল পাঠাতে হবে, নিবন্ধন করতে হবে এবং সমস্ত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। আমি সেই প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনা করার কেউ নই। তারা যদি এমন দাবি করে থাকে, তবে সেটা তাদের সমস্যা। এতে আমাদের কোনও দায় নেই।”

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিছু অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর মানকুসোর বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর আরও জোরালো হয়েছে। একটি ফোনালাপে তাকে ‘জরুরি কোর্স’ সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে শোনা যায়, যা মাত্র “এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন” সময় নেয় এবং এর খরচ “২০,০০০ ডলার”। এর জবাবে তিনি নিজেকে রক্ষা করে বলেন, “কিন্তু… কিন্তু তা তো অসম্ভব, কারণ এটা করা সম্ভবই না। এটা একেবারেই অসম্ভব! কারণ আপনাকে অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি সরাসরি ক্লাসও করতে হবে…।”

ম্যারাডোনার প্রাক্তন এই সহকারী আরও ইঙ্গিত দেন যে, বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় কোর্স সম্পন্ন করেছেন ঠিকই, তবে তা কেবল অনলাইন অংশটুকু। তারা সরাসরি উপস্থিত হয়ে করার অংশটুকু অসম্পূর্ণ রেখেছেন, “তারা যদি পড়াশোনা করে থাকে এবং তাদের কাছে যদি অনলাইন অংশটি শেষ করার প্রমাণ থাকে, তবে তো এটি অবৈধভাবে করা হয়নি। আমার মনে হয় এই বিষয়টি তাদের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্ট দেখভাল করছে, আপনি জানেন তো?”

এরপর সাংবাদিক জোয়ানা দে আসিস দুটি সুনির্দিষ্ট নাম— পাউলিনহো এবং অ্যালেক্সের বিষয়ে চাপ দেন, “তাদের কাছে কি আর্জেন্টিনার লাইসেন্স আছে?” মানকুসো দ্রুত উত্তর দেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, তারা অনলাইনে পড়াশোনা করেছে।” সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন তোলেন: “আর প্রো লাইসেন্স কি বৈধ?” কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর মানকুসো উত্তর দেন, “হ্যাঁ, তারা অনলাইনে পড়েছে। তবে তারা কীভাবে সরাসরি ক্লাসগুলো করেছে তা আমার জানা নেই। এই বিষয়টিই আমি লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টের কাছে জানতে চাই।”