‘বাংলাদেশ যদি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ না জেতে, বড় ধরনের বিস্ময় হবে’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মানেই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বাড়তি আবেগ- উন্মাদনা। সবচেয়ে মর্যাদার এই টুর্নামেন্টটি ‘দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ’ বলে অভিহিত হয়ে থাকে। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবারও বাংলাদেশের মাটিতে বসতে যাচ্ছে সাফের আসর। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে হবে এবারের প্রতিযোগিতা। ছয় দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্ট ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা ও উত্তেজনা। আসন্ন সাফ শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে শীর্ষে রেখেছেন শ্রীলঙ্কার কুয়েতি কোচ আব্দুল্লাহ আল মুতাইরি।

তার চোখে, বাংলাদেশ ও ভারতই এবারের আসরে সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দল। তবে ঘরের মাঠের সুবিধা, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং দেশের বাইরে খেলা  ফুটবলারদের উপস্থিতি বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করেন কুয়েতের কোচ।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেছেন শ্রীলঙ্কার এই কোচ। তার মতে, ইউরোপের একটি দলের (সান মারিনো) বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে, যা দলটির সামর্থ্যের প্রমাণ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জাতীয় দলে হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলারের উপস্থিতি।

আল-মুতাইরি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা খুবই শক্তিশালী গ্রুপ। আমার লক্ষ্য সেমিফাইনালে ওঠা। বাংলাদেশ ও ভুটান  শক্তিশালী দল। তাদের অভিজ্ঞতা আছে। বাংলাদেশের স্কোয়াডও শক্তিশালী।’

বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে অবশ্যই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিততে হবে। হামজা ও পুরো স্কোয়াড, তার ওপর ঘরের মাঠের সুবিধা— সব মিলিয়ে তারা এগিয়ে। বাংলাদেশ যদি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ না জেতে, তাহলে সেটা আমার জন্য বড় ধরনের বিস্ময় হবে।’

বাংলাদেশ দলে বাইরে খেলা ফুটবলারদের উপস্থিতিকেও বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন আল-মুতাইরি। বিশেষ করে হামজা চৌধুরীকে এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি, ‘বাংলাদেশের সাতজন খেলোয়াড় ইউরোপে খেলছে। বিশেষ করে হামজা এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তাই আমার মতে বাংলাদেশই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেরা দল।’

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা প্রসঙ্গে অবশ্য প্রতিবেশী দলটিকেও হালকাভাবে নিতে চান না শ্রীলঙ্কার কোচ। তবে সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ের ফল বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করেন তিনি।

আল-মুতাইরি বলেন, ‘আমি ভারতকে কখনও খাটো করি না। কিন্তু বাংলাদেশ বেশি শক্তিশালী। সর্বশেষ বাংলাদেশ ও ভারতের ম্যাচে বাংলাদেশ ১-০ গোলে জিতেছে। সেদিন বাংলাদেশের সবাই ভালো খেলেছে। আমার ধারণা, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ আরও ভালো করবে।’

তবে শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যই ঠিক করেছেন আল-মুতাইরি। তাদের দলে সর্বোচ্চ বংশোদ্ভুত খেলোয়াড় থাকলেও দলটি এখনও উন্নয়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপাতত ফলের চেয়ে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে চাই, শ্রীলঙ্কার জন্য আমরা শুধু খেলতে চাই। ফলাফল নিয়ে এখন ভাবছি না। আমরা দল গড়ে তুলছি। এখনও উন্নয়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। আমাদের আরও সময় প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য সেমিফাইনালে ওঠা। সেখানে পৌঁছাতে পারলে আমরা খুশি হবো।’

বাংলাদেশের ঘরের মাঠের সুবিধার কথাও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তিনি। তার মতে, সমর্থকদের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

‘বাংলাদেশ ও ভারতই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের ফেবারিট। বাংলাদেশ ঘরের দল। স্টেডিয়ামে তাদের সমর্থকেরা থাকবে, পরিবেশও তাদের পক্ষে থাকবে। আর হামজা তো সেরা’, বলেছেন কোচ।

তবে শুধু এক-দুইটি প্রীতি ম্যাচের ফল দিয়ে কোনও দলের শক্তি বিচার করা উচিত নয় বলেও মনে করেন আল-মুতাইরি। ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মনে করিয়ে দিলে তার মতে, বাংলাদেশের সামগ্রিক শক্তি এবং বর্তমান অবস্থানই তাদের ফেবারিট করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু এক বা দুটি প্রীতি ম্যাচ জেতার বিষয় নয়। আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের খেলা দেখেছি।  বাংলাদেশ এখনও উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় থাকা দল নয়— তাদের শক্তিশালী স্কোয়াড আছে এবং তারা শিরোপার দাবিদার। আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে। এ নিয়ে আর বেশি কিছু ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। আবারও বলছি বাংলাদেশ ও ভারতই (অনূর্ধ্ব ২৩ দল আসলেও) ফেবারিট।’