পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের ‘প্রতিশোধ’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে এসে ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করেনি পাকিস্তান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কাতার থেকে জার্সিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আসার পর ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে তারা। শেষ দিকে দারুণ লড়াইয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও হার এড়াতে পারেনি পাকিস্তান। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে সাফ অভিযান শুরু করেছে ভারত।

সুহাইল আহমেদ ভাটের জোড়া গোলের পর ভারতের হয়ে জালের দেখা পান মাংলেংথান কিপগেন। শেষ দিকে নাজিব উল্লাহ ও আলমগীর আলি খান গাজীর গোলে ব্যবধান কমিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায় পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।

২০০৩ সালে ঢাকায় ভারতকে হারিয়েছিল পাকিস্তান। ২৩ বছর পর সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাল ভারত।

সাফে এ নিয়ে দুই দলের দেখা হলো ১০ বার। এর মধ্যে আট ম্যাচে জিতেছে ভারত। বাকি দুই ম্যাচের একটিতে ড্র হয়েছে, অন্যটিতে ২৩ বছর আগে ঢাকায় জয় পেয়েছিল পাকিস্তান।

জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১২ মিনিটে সতীর্থের পাস বুক দিয়ে নামিয়ে কোনাকুনি শটে জালে বল পাঠিয়েছিলেন সুহাইল। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

পরের মিনিটেই অবশ্য গোল পেয়ে যায় প্রতিযোগিতার রেকর্ড নয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। মুহাম্মদ উভাইস মইকালের আড়াআড়ি ক্রস থেকে নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন সুহাইল।

পাকিস্তানের ওপর চাপ ধরে রেখে ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ভারত। আভিষেক ধনাঞ্জয়ের থ্রু পাস অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেন সুহাইল। এরপর গোলকিপারকে পাশ কাটিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।

৩২ মিনিটে এন নওশাদের থ্রু পাস থেকে কিপগেনের শট আটকাতে পারেননি পাকিস্তানের গোলকিপার ইউসুফ ইজাজ বাট। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেও বলের নাগাল পাননি তিনি। তার পায়ে লেগে বল জালে জড়ায়।

দুই মিনিট পর বক্সে হায়ান খাট্টাককে ফাউল করেন আভিষেক ধনাঞ্জয়। পেনাল্টি পায় পাকিস্তান। কিন্তু স্পট কিক থেকে বল পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে হতাশ করেন শায়েক দোস্ত। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হারিয়ে আরও এলোমেলো হয়ে পড়ে পাকিস্তান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ভারত। বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মোহাম্মেদ সুহাইল। কিন্তু বলের শেষ স্পর্শ বেশি দূরে চলে যাওয়ায় শট নিতে পারেননি তিনি। ৬০ মিনিটে হাসান আলির শট পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে আটকে দেন ইজাজ বাট।

৮৪ মিনিটে ব্যবধান কমানোর সুযোগ আসে পাকিস্তানের সামনে। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন নাজিব। তবে কাছের পোস্টে পথ আগলে দাঁড়িয়ে তার শট রুখে দেন ভারতের গোলকিপার আরশ আনোয়ার শেখ।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে নাটকীয়ভাবে বদলে যায় ম্যাচের দৃশ্যপট। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বাঁ দিক থেকে বক্সে ক্রস বাড়ান জুনায়েদ আহমেদ শাহ। দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে পাঠান নাজিব।

শেষ মুহূর্তে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন গোলে ম্যাচ জমিয়ে তোলে পাকিস্তান। অ্যারন আব্দুল্লাহর পাস বুটের টোকায় একটু ওপরে তুলে প্রায় শুয়ে পড়া অবস্থায় সাইডভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন আলমগীর। তাতে ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩-২। তবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয়।