বাংলাদেশের মতো স্কোয়াডের গভীরতা আমাদের নেই: ভুটানের কোচ

বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম এক ঘণ্টা সাধ্য মতো খেলেছে ভুটান। রক্ষণ সামলে মাঝে মধ্যে প্রতি-আক্রমণে উঠে কয়েকটি সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিটনেসের ঘাটতিতে আর পেরে ওঠেনি দলটি। ম্যাচের শেষে বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হারতে হয়েছে ভুটানকে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের পর দলের পারফরম্যান্সে অবশ্য সন্তুষ্ট ভুটানের কোচ গ্যারি মাইকেল ফিলিপস। খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতা ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ফিটনেসের ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবকেই হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফিলিপস বলেন, ‘দলের পারফরম্যান্সে আমি অনেক গর্বিত। সবাই দেখেছে, প্রায় এক ঘণ্টা আমরা ভালো খেলেছি। দুর্ভাগ্যবশত, ফিটনেসের ঘাটতির মাশুল দিতে হয়েছে আমাদের। কয়েক দিন আগেও বলেছিলাম, আমরা খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি। এটাই ছিল আমাদের প্রথম ম্যাচ। স্থানীয় লিগও বেশ কিছুদিন আগে শেষ হয়েছে। পুরো দলকে একসঙ্গে পাওয়াও কঠিন ছিল।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল ভুটান। নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আক্রমণ সামলে প্রতি-আক্রমণে সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা ছিল তাদের। কোচের মতে, পরিকল্পনা অনেকটা সফল হলেও শেষ দিকে ক্লান্তির কাছে হার মানতে হয়েছে।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য রাখার পরও শেষ পর্যন্ত কেন বাংলাদেশকে আটকে রাখা গেল না, সেই ব্যাখ্যায় ভুটান কোচ বলেন, ‘আমি জানতাম পরিস্থিতি বদলাবে। কারণ, আমাদের খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। বাংলাদেশের মতো স্কোয়াডের গভীরতা আমাদের নেই। আমাদের জনসংখ্যাও কম। থিম্পুতে হয়তো ২ লাখের মতো মানুষ থাকে, সেখান থেকেই আমাদের সব খেলোয়াড় আসে। তাই ৯০ কিংবা ১০০ মিনিট খেলার মতো খেলোয়াড় পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে হজম করা গোলটি নিয়েও আক্ষেপ আছে ফিলিপসের। তার মতে, গোলটি ঠেকানোর সুযোগ ছিল ভুটানের। তিনি বলেন, ‘ভাগ্য একটু সহায় হলে আমরাও হয়তো একটি গোল পেতে পারতাম। যে গোলটি হজম করেছি, সেটি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া উচিত ছিল। গোলটি খুব ভালো কোনও আক্রমণ থেকে আসেনি। আমরা চাইলে আরও ভালো করতে পারতাম। আশা করি, এই ভুল থেকে শিক্ষা নেবো।’

তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়াই করে হারলেও দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের অবস্থান নিয়ে আশাবাদী ভুটান কোচ। তার বিশ্বাস, আরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে দলটি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবে।

ফিলিপসের দাবি, পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলায় তার দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচ ফিটনেসে পিছিয়ে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আরও বেশি অভিজ্ঞতা এবং একসঙ্গে কাজ করার সময় পেলে আমরা ভালো করতে পারতাম। আমাদের অনেক খেলোয়াড় ছয়-সাত-আট সপ্তাহ ধরে ম্যাচ খেলেনি। গত ফিফা উইন্ডোতে আমরা যদি খেলার সুযোগ পেতাম, তাহলে খেলোয়াড়রা আরও ফিট থাকত এবং বাংলাদেশকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারতাম। কৌশলগতভাবে আমি সন্তুষ্ট ছিলাম। তবে শেষ ১৫ মিনিটে আমরা ভুগেছি। ক্লান্ত পা নিয়ে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচে ফেরাটা কঠিন।’

ম্যাচে ভুটানের কয়েকজন খেলোয়াড়কে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কোচ জানান, অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যার কারণ ছিল পেশিতে টান। দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকায় খেলোয়াড়দের এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এখন ভুটানের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কা। মাত্র দুই দিনের বিশ্রাম নিয়ে পরের ম্যাচ খেলতে হবে তাদের। ফিলিপস বলেন, ‘পরের ম্যাচটিও কঠিন হবে। আমাদের মাত্র দুই দিনের বিশ্রাম। শ্রীলঙ্কা সতেজ হয়ে মাঠে নামবে। তাই পরবর্তী ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের ভালোভাবে পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে হবে।’