টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। মাঠের পারফরম্যান্সেও সেই সুনামের প্রতিচ্ছবি ধরে রাখলেন আইরিন-সাফারা। শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে শক্তিশালী কাজাখস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করে এই খেতাব জেতার পাশাপাশি ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের সাফা রিমন।
ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন অধিনায়ক আইরিন। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুর দিকে পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমা নাদিরা। ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচজুড়ে রক্ষণভাগ নিশ্ছিদ্র রাখে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। পরের দুই কোয়ার্টারে কাজাখস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ফলে ওই ব্যবধান ধরে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে বাংলাদেশ নারী হকি দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় এটিই এখন পর্যন্ত দেশের নারী হকির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও সেরা সাফল্য। এর আগে জুনিয়র এএইচএফ কাপের গত আসরে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও রানার্সআপ সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ট্রফি নিজেদের করে নিল মেয়েরা। উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতার রাউন্ড রবিন লিগেও এই কাজাখস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ও কাজাখস্তান ছাড়াও এই অনূর্ধ্ব-২০ এএইচএফ কাপে অংশ নিয়েছিল উজবেকিস্তান, পাকিস্তান এবং হংকং চায়না। পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছিল এক কথায় অপ্রতিরোধ্য। পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল আইরিনরা। এরপর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পায় দল। তবে পরের ম্যাচে আবারও রুদ্রমূর্তি ধারণ করে মেয়েরা; পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বারের মুখোমুখি দেখায় গুঁড়িয়ে দেয় ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। এই বিধ্বংসী ফর্ম ফাইনালেও ধরে রেখে ট্রফি উঁচিয়ে ধরলো বাংলাদেশ।