গেরহার্ডের অধীনে ইউরোপীয় স্টাইলে অনুশীলন শুরু জাতীয় হকি দলের

জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম অনুশীলন সেশন শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে আসন্ন এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে দলের কৌশলগত পরিবর্তন এবং ইউরোপীয় খেলার ধারা অনুসরণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

গেরহার্ড স্বীকার করেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য হাতে রয়েছে মাত্র চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ। সীমিত এই সময়কে তিনি মিশন ইম্পসিবল হিসেবে উল্লেখ করলেও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, ‘আমরা এই অসম্ভবকেই সম্ভব করবো।’

ইউরোপীয় অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে গেরহার্ড অতীত ও বর্তমানের বেশ কয়েকটি সফল উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা তাদের পুরো দলকে জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের বিভিন্ন ক্লাবের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলেছিল। সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে তারা স্বর্ণপদক জিতেছিল।

বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলগুলোও তাদের খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং অনুশীলন ক্যাম্প ইউরোপেই পরিচালনা করছে।

গেরহার্ডের মতে, আধুনিক হকির গতি ও খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। সে কারণে এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী দলগুলো এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যেই তাদের সেরা খেলোয়াড়দের জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলতে পাঠাচ্ছে।

এই ব্যবধান কমাতে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলও জার্মানিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও নিবিড় অনুশীলন ক্যাম্প করবে। খেলোয়াড়দের দ্রুত উন্নতির লক্ষ্যে ক্যাম্পের জন্য ব্যস্ত সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ক্যাম্প চলাকালে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। অনুশীলন ক্যাম্পের শেষ দিকে বর্তমান জার্মান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবের বিপক্ষেও মাঠে নামবে দলটি।

কোচ পিটার গেরহার্ড বলেছেন, ‘ইউরোপের খেলার ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার লক্ষ্য হলো দলে এই ইউরোপীয় স্টাইল নিয়ে আসা। আমরা যদি এটি আয়ত্ত করতে পারি, তবে এশিয়ান গেমসে এশিয়ার অন্য দলগুলো আমাদের বিরুদ্ধে বেশ সমস্যায় পড়বে। সমীকরণটি খুবই সহজ।’