‘চেষ্টা করছি খেলোয়াড়দের যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়’

নতুন কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের হকিতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন ইশতিয়াক সাদেক। শনিবার জাতীয় দলের অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

অনুশীলন শেষে টার্ফে নেমে খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন। পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রয়াত কিংবদন্তি আব্দুস সাদেকের ছেলে বলেন, ‘চেষ্টা করছি খেলোয়াড়দের যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো যায়। খেলোয়াড়রাই আমাদের মূল সম্পদ। তাই ওদের থাকা-খাওয়া, জিম, প্র্যাকটিস সুবিধা যদি উন্নত করতে পারি... একটু সময় লাগবে, তবে আমরা চেষ্টা করছি। পুরো কমিটিই চেষ্টা করছে।’

দায়িত্ব নেওয়ার পরই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন কমিটি। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফিরেছেন রাসেল মাহমুদ জিমি। একই সঙ্গে জার্মান কোচ পিটার গেরহার্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ইশতিয়াক সাদেক।

তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন আমরা একজন বিদেশী কোচ এনেছি, যিনি বাংলাদেশে আগেও কাজ করেছেন। উনার আগের যে পরিকল্পনা ছিল ইউরোপে, বিশেষ করে জার্মানিতে গিয়ে অন্তত ১৫-২০টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার, আমি নিশ্চিত এটি দীর্ঘমেয়াদে আমাদের অনেক উপকারে আসবে।’

এরপর তার কথা, 'শুধু খেলে চলে আসা নয়, আমাদের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। যেহেতু দেশে লিগ অনিয়মিত, তাই এখানকার অনেক খেলোয়াড়ই জার্মানি বা ইউরোপের লিগে খেলে। ভবিষ্যতে যেন অন্তত ৪০-৫০ জন খেলোয়াড় নিয়মিত ইউরোপে খেলতে পারে, সেটাও আমাদের পরিকল্পনার অংশ।’

বাংলাদেশের হকিতে নিয়মিত লিগ না হওয়াটা দীর্ঘদিনের সমস্যা। খেলোয়াড়দের সবচেয়ে বড় আক্ষেপও এটি। ইশতিয়াক সাদেক জানান, প্রথম বিভাগ লিগ মাঠে গড়ানোর বিষয়টি নিয়ে নতুন কমিটি কাজ করছে।

এরপরই আবেগতাড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই হকির সঙ্গে আমি। আজকেও এক বন্ধুকে বলছিলাম যে ক্রিকেটের চেয়েও হকি মাঠে আমার আসা-যাওয়া বেশি ছিল। যেমন আজকে হারুন (মাহবুব হারুন) ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম, আগের দিনের খেলোয়াড় জুম্মন লুসাই, কাঞ্চন (জসিম উদ্দিন), লুলু (জামিল পারভেজ)- সবার খেলা দেখেছি।’

হকির উন্নয়নে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি। ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘হকিটা আগে অন্যভাবে উপভোগ করতাম, এখন এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এটি আমার বাবার একটি অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার প্রয়াস। যতদিন দায়িত্বে আছি, নিজের সেরাটা দিয়ে হকির জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’

তিনি আরও জানান, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে লিগ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শুরুতেই প্রথম বিভাগ লিগ শুরুর প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধান কোচ পিটার গেরহার্ড। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩৮ জন খেলোয়াড়কে তিনটি দলে ভাগ করে আয়োজন করা হয় অনুশীলন ম্যাচের।

খেলোয়াড়দের কৌশলগত দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং ম্যাচ পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা মূল্যায়ন করাই ছিল এই ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য। ম্যাচ শেষে প্রধান কোচ পিটার গেরহার্ড বলেন, ‘খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা এবং মাঠের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করার জন্য এই অনুশীলন ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই আমরা পরবর্তী ধাপের জন্য এগুতে পারবো।’