২০২০ সালের ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ গেমস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে হতে পারেনি। নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশব্যাপী বাংলাদেশ গেমস এবারও হবে কিনা সংশয় ছিল। তবে সব সংশয় উড়িয়ে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ গেমসের নবম আসার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি গেমসের উদ্বোধন করবেন।
১০ দিনব্যাপী এই ক্রীড়াযজ্ঞে ৯ জেলা শহরে ৩১ ডিসিপ্লিনে ৩৭৮টি সোনার পদকের (মোট পদক ১২৭১) জন্য লড়াই করবেন ৫৩০০ ক্রীড়াবিদ।
এরই মধ্যে টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকায় চলে এসেছে বাংলাদেশ গেমসের মশাল। বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনে (বিওএ) বিকালে সাবেক ক্রিকেট তারকা গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও সাবেক ফুটবল তারকা শেখ মোহাম্মদ আসলাম মশাল হস্তান্তর করেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের হাতে। সেটি গ্রহণ করে সফল একটা গেমসের প্রত্যাশার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী, ‘আমরা সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে গেমসটা আয়োজন করবো। সব ধরনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়াবিদরা যাতে নিরাপদে খেলায় অংশ নিতে পারে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আছে। আশা করছি, সফলভাবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গকৃত এই আসরটি আমরা আয়োজন করতে পারবো।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভেন্যু বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছে নানা অনুষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন সন্ধ্যা পৌনে ৭টায়। তিনি যুক্ত হওয়ার পর জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনীর মাধ্যমে একঝলকে তুলে ধরা হবে দেশের খেলাধুলা।
খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা মাঠে প্রবেশ করবেন সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে। মার্চপাস্টের পর শপথবাক্য পাঠ করাবেন আর্চার রোমান সানা। রাত ৭টা ৮ মিনিটে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন বিওএ সভাপতি ও গেমসের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। রাত সোয়া ৭টায় গেমস উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপরই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মশাল প্রজ্জ্বালন করবেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান ও ২০১৬ এসএ গেমসে জোড়া স্বর্ণপদক জয়ী সাঁতারু মাহফুজা খাতুন শিলা। ক্রীড়াবিদরা মাঠ ছাড়ার পর মাসকট শান্তির পায়রা প্যারেড করবে মাঠজুড়ে। এরপর বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে নিয়ে হবে প্রদর্শনী। স্টেজ শোতে অংশ নেবেন দেশের বেশ ক’জন শিল্পী। তারপর রাত সাড়ে ৮টায় লেজার শো, আতশবাজির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরের দিন থেকে ডিসিপ্লিনগুলোর ক্রীড়াবিদদের লড়াই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।