বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য পান। বিশেষ করে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে সোনার পদক পেয়ে সবাইকে চমকে দেন। সেই ইমরানই আবার গত বছর প্যারিস অলিম্পিকে চোট লুকিয়ে অংশ নিয়ে খারাপ ফল করেন। এবারও চোট লুকানো সেই অ্যাথলেটের ওপরই ভরসা রেখেছে ফেডারেশন। এ নিয়ে দেশে থাকা ও বেড়ে ওঠা অ্যাথলেটদের ক্ষোভ কম নয়।
আগামী ২৫ মার্চ বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকস হবে। সেখানে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেবেন ইমরান। এখানে দেশের অন্য কোনও অ্যাথলেটকে বিবেচনা করা হয়নি। অথচ গত বছর এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে রুপা জিতেছিলেন জহির রায়হান। এছাড়া আছেন অন্যরাও। তাদেরকে একপ্রকার অবহেলা করা হয়েছে।
এনিয়ে জহির বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যেই অ্যাথলেট অলিম্পিকে চোট লুকিয়ে অংশ নিয়ে খারাপ ফল করেছে তাকে আবার কোন বিবেচনায় বিশ্ব ইনডোর প্রতিযোগিতায় খেলানো হচ্ছে। আমার ইমরানুরের ওপর কোনও ক্ষোভ নেই। ওর সঙ্গে আমাদের সবার সুসম্পর্ক। ক্ষোভ হলো প্রতিযোগিতায় পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে। গতবার তো আমি রুপা এনে দিয়েছিলাম। কই আমাকে কিংবা অন্যদেরও তো বিবেচনা করা হয়নি।’
এরপরই আরও যুক্তি তুলে ধরে ৪০০ মিটারে দেশের সেরা অ্যাথলেট বলেছেন, ‘আমরা কতো কষ্ট করে নিজেদের ফিটনেস ঠিক রাখি। ফেডারেশন যেভাবে লন্ডন প্রবাসী অ্যাথলেটকে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, কই আমাদের তো সেভাবে দেয় না! আমরা আমাদের মতো অনুশীলন করে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে সাফল্য নিয়ে এসেছি। আমরা তো চোট লুকিয়ে খেলে দেশের সঙ্গে প্রতারণা করিনি। যদি ফেডারেশনের সবার লন্ডন প্রবাসী একজন অ্যাথলেটের দিকে শুধু দৃষ্টি থাকে। তাহলে আমাদের তো কোনও প্রয়োজন নেই। আপনি ট্রায়াল করে দেখতে পারতেন কার কী অবস্থা। তা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন! আমি মনে করি আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। এভাবে চললে অবসরে চলে যাবো। খেলে আর কী হবে।’
এনিয়ে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, ‘ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সবার মতের ওপর ভিত্তি করেই ইমরানুরকে বাছাই করা হয়েছে। এখানে কোনও বৈষম্য করা হয়নি। বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে আমরা যেন সম্মানজন ফল করতে পারি তাই ওকে পাঠানো হচ্ছে। আমরা ওর সঙ্গে কথা বলেছি ও বলেছে এখন শতভাগ ফিট। অনুশীলনের মধ্যে আছি। এছাড়া ওকে বাছাই করার আরও একটি কারণও আছে। অ্যাথলেটিকসে সবার দৃষ্টি থাকে ১০০ মিটার কিংবা ৬০ মিটার স্প্রিন্টের দিকে। তাই ইমরানুরকে বাছাই করা হয়েছে।’
তাহলে কী অন্য ইভেন্টের অ্যাথলেটরা ব্রাত্য থাকবেন? শাহ আলম জানালেন, ‘তা হবে কেন। এরপর অন্য খেলাগুলোতে অন্যরা যাবেন। শুধু ইমরানুর যাবেন তা নয় কিন্তু। আর মিডিয়া তো শতমিটার স্প্রিন্ট কিংবা ৬০ মিটারের খবর বেশি জানতে চায়। তাই আমরা জানি চীনে পদক আসবে না। এখন ইমরানুর সম্মানজনক ফল করতে পারলেই হয়। ও হয়তো তা পারবে।’