দেশের প্রথম ঘোড়সওয়ারি ক্লাব নিয়ে বড় স্বপ্ন ফর্টিসের

রাজধানীর পূর্বাচলের জলসিঁড়িতে ফর্টিস গ্রুপ গড়ে তুলছে একটি আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স। সেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ নানা খেলাধুলার অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে তাদের নিজস্ব ক্লাব রয়েছে। এবার করপোরেট প্রতিষ্ঠানটি দেশে প্রথমবারের মতো একটি ইকুয়েস্ট্রিয়ান (অশ্বারোহী) ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছে। অলিম্পিক গেমসে অন্তর্ভুক্ত ঘোড়সওয়ারির খেলাকে দেশে জনপ্রিয় করে তুলতেই ফর্টিস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন।

আপাতত স্পোর্টস কমপ্লেক্সে তিনটি ভারতীয় ঘোড়া দিয়ে ফর্টিস ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউরোপ থেকে আরও উন্নতমানের ঘোড়া আনার পরিকল্পনা রয়েছে শাহাদাত হোসেনের। পাশাপাশি হর্স পোলোসহ অলিম্পিকভুক্ত বিভিন্ন ইভেন্ট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে এই ক্রীড়ানুরাগী ব্যবসায়ীর।

সোমবার ফর্টিস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ইকুয়েস্ট্রিয়ান ক্লাবের উদ্বোধনকালে শাহাদাত হোসেন বলেন, 'বাংলাদেশ এখনও অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে আছে। বিশ্বজুড়ে হর্স রাইডিং ও হর্স পোলো বেশ জনপ্রিয়, কিন্তু আমাদের এখানে কোনও ক্লাব নেই, কোনও টুর্নামেন্টও হয় না। সেই ভাবনা থেকেই শিশুদের একটি বৈচিত্র্যময় খেলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এই ক্লাবের যাত্রা শুরু করেছি। এছাড়া ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্য খেলাতেও আগ্রহ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।'

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঘোড়া চালনা শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, 'আমরা বাচ্চাদের দিয়েই শুরু করবো। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্কুলের সঙ্গে কথা বলছি। ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক আসর আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তা না হলে শিশুদের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হবে। আমাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং ভালো ফল অর্জন করা।'

লে. কর্নেল (অব.) ফরিদুল আকবর ভারতে ইকুয়েস্ট্রিয়ান স্পোর্টস দেখে এসে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে এই সংস্থা গড়ে তোলেন এবং বর্তমানে তিনি এর সভাপতি। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি শাহাদাত হোসেনের যোগ্য নেতৃত্বে সারা দেশে এই খেলাটি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।”

বাংলাদেশ ইকুয়েস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাহিয়া ইসলাম নিজেও একজন হর্স রাইডার। দেশে নারী হর্স রাইডারদের মধ্যে তিনি অন্যতম। অ্যাসোসিয়েশন গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে হর্স রাইডিং বা এ ধরনের খেলাধুলার কোনও সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম নেই। তাই আমরা চাই মানুষ জানুক এটি একটি সম্ভাবনাময় স্পোর্টস এবং এই খাতেও অনেক কিছু করা সম্ভব। আমাদের দেশে অনেক প্রতিভাবান রাইডার রয়েছে, যারা সঠিক সুযোগ পেলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভালো করতে পারবে।'

তিনি আরও জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অ্যাফিলিয়েশনের জন্য আবেদন করা হয়েছে, অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে অনুমোদন পেলে আমরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবো।

ফর্টিস ক্লাব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি, 'ব্যক্তিগতভাবে আমি খুবই আনন্দিত যে এত মানুষ এখানে এসেছেন এবং এই খেলাটিকে সমর্থন করছেন। আশা করি সামনে আরও অনেকে যুক্ত হবেন। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ফর্টিস ক্লাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্লাব। অনেক দেশেও এ ধরনের রাইডিং ফিল্ড দেখা যায় না।'