হামজা কেন ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলারের ওপর চড়াও হয়েছিলেন

ফিফা আসিয়ান কাপে শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে রেফারির বাঁশি বাজতে না বাজতেই হামজা চৌধুরী হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান ইন্দোনেশিয়ার খেলোয়াড়ের সঙ্গে।  এ নিয়ে ব্যাখ্যা মিলেছে।  এছাড়া হামজা নিজেও সমর্থকদের হতাশ হতে না করেছেন।

স্বাগতিকদের বিপক্ষে হামজার ম্যাচ শেষে হাতাহাতি নিয়ে সতীর্থ সোহেল রানা জুনিয়র বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘হামজা তো আসলে পুরোপুরি পেশাদার খেলোয়াড়। জিদান ইউসুফকে ওরা কিছু একটা বলছিল। এ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ে। সাদ উদ্দিনকে নিয়ে মনকষাকষি ছিল। হামজা সে সময় কিছু একটা বলে তা থামাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইন্দোনেশিয়ার একজন খেলোয়াড় হামজাকে বাজে ভাষায় আক্রমণ করে। সম্ভবত গালিও দিয়েছেন। তখন হামজা সেই খেলোয়াড়ের ওপর চড়াও হন। তাকে অনেক কষ্টে সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়। আসলে নিজের পরিবার নিয়ে কটু কথা, আজেবাজে ভাষা ব্যবহার করলে হামজা খেপে যান।  এছাড়া তিনি পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে অনুকরণীয়।’

এদিকে ফিফা আসিয়ান কাপে তিন ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার কাছে হেরে হতাশ  সবাই। তবে হতাশার মধ্যেও ইতিবাচক থাকার বার্তা দিচ্ছেন হামজা চৌধুরী। দলের কঠিন সময়ে সতীর্থদের আগলে রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী শেফিল্ড ইউনাইটেডের ফুটবলার।

হামজা জাকার্তায় লাটিন বাংলাকে বলেছেন, ‘আমাদের সূচিটা খুব ভালো ছিল না। স্থানীয় খেলোয়াড়দের বিরতি ছিল, এরপর এক মাসের ক্যাম্প করে আমরা মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলতে গেছি। এটা খুব কঠিন ছিল। তবে কিছু মুহূর্তে আমরা দেখিয়েছি, ওই পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য আমাদের আছে।’

তিন ম্যাচে হারের হতাশা অবশ্য আড়াল করেননি হামজা। দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আক্ষেপও ঝরেছে তার কণ্ঠে, ‘আমরা এখনও খুব হতাশ। সত্যি বলতে, কিছু দিক থেকে আমাদের মনে হয়েছে, আমরা দেশকে হতাশ করেছি। তবে আমরা খুব ভালো কিছু খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলেছি, যাদের অনেকেই ইউরোপে খেলে। এটা আমাদের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা কিছু শিখেছি।’

হতাশার মধ্যেও তাই সামনে তাকাতে চান হামজা। তার বিশ্বাস, একটি টুর্নামেন্টের ফল দিয়ে বাংলাদেশের ফুটবলের সামগ্রিক অগ্রযাত্রাকে বিচার করা ঠিক হবে না। সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে ঘরের মাঠে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা তার।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তির একটি তরুণ ফুটবলারদের উঠে আসা। ফারহান, শুকি, জিদান ও জায়ানদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন হামজা।

তাদের নিয়ে তার বক্তব্য, ‘এটা খুব ভালো। ইনশাআল্লাহ, সামনে তারা দলের বড় অংশ হয়ে উঠবে এবং আমাদের সাহায্য করতে পারবে। এখনও আশাবাদী হওয়ার মতো অনেক কিছু আছে। একটি ম্যাচ আমাদের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার গতিপথ বদলে দিতে পারে না। আমাদের গতি এখনও আছে।’

বাংলাদেশের নতুন কোচ থমাস ডুলির অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল হামজাকে। আগের কোচ হাভিয়ের কাবরেরার সঙ্গে ডুলির প্রশিক্ষণ পদ্ধতির তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, প্রত্যেক কোচের নিজস্ব কৌশল, পদ্ধতি ও খেলার ধরন রয়েছে। ডুলির কাজের ধরনও আলাদা।

তবে কোচ পরিবর্তনের চেয়েও এই মুহূর্তে দলের ঐক্য ধরে রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন হামজা। তার মতে, জাতীয় দলের সবাইকে পরিবারের মতো একসঙ্গে থাকতে হবে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী এই তারকা ফুটবলার। সমর্থকদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে আমরা যে ভালোবাসা ও সমর্থন পাই, তা নিয়ে আমি সবসময় কথা বলি। এখন আগের চেয়ে বেশি করে সেই সমর্থন প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সাফে যেতে পারবো। নিজেদের মাঠে শিরোপা জিততে পারবো।’