ফিফা আসিয়ান কাপে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে বাংলাদেশ ৯-২ গোলে হেরেছে। এমন ফলের পর সমালোচনা হবে, দর্শকদের ক্ষোভও থাকবে—সেটা স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলির সেসব নিয়ে খুব একটা ভাবনা নেই। বরং শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই হারকে দলের শেখার অংশ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
নিজেদের মাঠে ফাইনালে ওঠার জন্য প্রতিপক্ষের প্রয়োজন ছিল অন্তত সাত গোলের ব্যবধানে জয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত ৯ গোল হজম করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব নিয়ে সমালোচনা করছেন সমর্থকরা। পাশাপাশি কোচের পরিকল্পনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তবে এমন হারের পরও হতাশায় ভেঙে পড়তে রাজি নন কোচ থমাস ডুলি। জাকার্তা থেকে ঢাকায় আসার আগে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি নিজেও কখনও এমন পরিস্থিতিতে পড়িনি—এমন একটি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলা, যাদের নিজেদের মাঠে ফাইনালে ওঠার জন্য অন্তত সাত গোলের ব্যবধানে জিততেই হতো!’
সমালোচনার জবাবে আবেগপ্রবণ হওয়ার পরিবর্তে বাস্তবতা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের এই কোচ। তার ভাষায়, ‘আপনি আসলে কী শুনতে চান? আমি কাঁদবো? না, আমরা এখানে শিখতে এসেছি। যখন আসল পরীক্ষা, তখন তাদের আর আমাদের মধ্যে ব্যবধান কতটা, সেটি দেখতে এসেছি। কোনও প্রীতি ম্যাচে নয়।’
প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য কোথায়, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডুলি। তার পর্যবেক্ষণ, টেকনিক, গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ অনেক এগিয়ে।
এই ব্যবধান কমানোর প্রসঙ্গে হামজার উদাহরণ টেনে ডুলি বলেন, ‘আমাদের যদি পাঁচ জন হামজা থাকতো, তাহলে খেলায় অনেক বড় পরিবর্তন আসতে পারতো।’
তবে এত বড় হারের পরও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কোচ।
ডুলির কথায়, ‘আমরা এখানে একটি শক্তিশালী দল গঠন করতে এসেছি, আর সেজন্য সময়ের প্রয়োজন। ভালো দলগুলোর বিরুদ্ধে খেললে আমরা ঠিক এই জিনিসটাই শিখতে পারি। হ্যাঁ, বাংলাদেশও একটি শক্তিশালী দল। অপেক্ষা করুন, সামনে দেখতে পাবেন।’
তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাবের বিষয়টি সামনে আনা হলে ডুলি দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বিরতির পর রক্ষণভাগ আগের তুলনায় ভালো খেলেছে। কিন্তু শেষ ১০ মিনিটে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সেই প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করেন তিনি।
এমনকি বাংলাদেশ গোল করার পরও অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ডুলি। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের আরও গোল প্রয়োজন ছিল বলেই অতিরিক্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।
ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা ফারহানের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট কোচ। যদিও এর আগে ‘ওয়ান্ডার বয়’ বয় বলে নেতিবাচক কথা বলেছিলেন। কোচ এবার বলেছেন, ‘ফারহান মাঠে নেমে দারুণ খেলেছেন। গোল করার একাধিক সুযোগ তৈরি করে একটি কাজে লাগিয়েছেন।’
ডুলি বলেন, ‘ফারহান নামার পর দারুণ খেলেছে। ওর অন্তত দুই বা তিনটি গোল করা উচিত ছিল। একটি অ্যাসিস্টও করতে পারতো।’
৯ গোল হজমের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসাটাও স্বাভাবিক। কোচের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বাফুফে ভবনের সামনে সমর্থকরা কোচের পদত্যাগ চেয়ে স্লোগানও দিয়েছে। তবে এসব মন্তব্যকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ ডুলি।
তার পরিষ্কার কথা, ‘আমরা যা-ই করি না কেন, তারা চায় আমি পদত্যাগ করি। দর্শকরা কী ভাবলো, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। ফেডারেশন জানে, এটার জন্য সময় প্রয়োজন। তারা ভালো করেই জানে ম্যাচটা কেমন হয়েছে এবং দলগুলো কতটা শক্তিশালী। দেখুন, ওদের কেমন কেমন স্ট্রাইকার আছে!’