মাতৃত্বের বিরতি পেরিয়ে ঢাকায় নিশির নতুন অধ্যায়

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল ইসমেতারা নিশির। কিন্তু সন্তান ছোট থাকায় সেবার জাতীয় দলে জায়গা হয়নি পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা বাংলাদেশ আনসারের এই খেলোয়াড়ের। ছয় বছর পর আবার আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবলের মঞ্চে ফিরছেন তিনি। এবার শুধু খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে। ঘরের মাঠে দলকে ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে নামার অপেক্ষায় নিশি।

আগামী ১৮ অক্টোবর পল্টনের ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু হবে চার দলের এই প্রতিযোগিতা। এতে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, নেপাল ও মালদ্বীপ। দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভালো করার প্রত্যাশার পাশাপাশি চাপও রয়েছে দলের ওপর।

এবারই প্রথম বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার অধীনে টানা তিন মাসের নিবিড় অনুশীলনে আধুনিক হ্যান্ডবলের নানা কৌশল শেখার সুযোগ পেয়েছেন তারা। নিশির মতে, এটিই দলের বড় প্রাপ্তি।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ তিন মাস আমরা নিবিড় অনুশীলন করেছি। এবারই প্রথম কোনও বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছি, এর আগে এমন সুযোগ কখনও হয়নি। কোচের কাছ থেকে আমরা আধুনিক অনেক কৌশল শিখেছি। কোর্টে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলে দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

অধিনায়ক হিসেবে নিশির লক্ষ্য ফাইনালে খেলা। সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা ভারত। তবে নেপাল ও মালদ্বীপকেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি। নিশির মতে, নেপালের রক্ষণভাগ বেশ শক্তিশালী, মালদ্বীপও আগের চেয়ে উন্নতি করেছে।

প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে ধারণা থাকলেও নিজেদের দল নিয়ে আশাবাদী নিশি। বর্তমান স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের অনেকে ২০১৯ সালের দলেও ছিলেন। নিশি বলেন, “দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়েরই আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালের দলেও অনেকেই খেলেছে। তবে তখন আমার সন্তান ছোট থাকায় আমি দলে থাকতে পারিনি। বর্তমানে দল বেশ ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারলে আশা করি ভারতের সঙ্গে আমরাই ফাইনাল খেলব।”

টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলাদেশের নারী হ্যান্ডবলে খেলোয়াড় তৈরির পথ নিয়েও ভাবছেন নিশি। তার মতে, জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসা অনেক মেয়ের হ্যান্ডবলে হাতেখড়ি হয় স্কুলশিক্ষকদের কাছে। শুরু থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণ পেলে তাঁদের উন্নতি আরও দ্রুত হতে পারে।

এ জন্য ফেডারেশনের কাছে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিশির ভাষায়, “আমরা সবাই মূলত জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসি, স্কুলের শিক্ষকদের কাছেই আমাদের প্রাথমিক শেখা। শুরু থেকেই যদি দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পে এমন বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করা যায়, তবে মেয়েরা গোড়াতেই আধুনিক হ্যান্ডবলের সঠিক পাঠ পাবে। শুরুটাই যদি সেরা মানের হয়, তবে মেয়েরা আরও দ্রুত উন্নতি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারবে।”

মাতৃত্বের কারণে যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একসময় খেলার সুযোগ হয়নি, ছয় বছর পর সেই মঞ্চেই অধিনায়ক হিসেবে ফিরছেন নিশি। এবার তার লক্ষ্য ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি দলকে ফাইনালে তোলা।