বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) পদত্যাগের ধারাবাহিকতা থামছেই না। নির্বাহী কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা পদ ছাড়ার দুই সপ্তাহের মাথায় এবার পদত্যাগ করেছেন উপমহাসচিব আমজাদ হোসেন। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে সংস্থাটির বর্তমান নির্বাহী কমিটির স্থায়িত্ব নিয়ে। ৩৭ সদস্যের কমিটি গঠনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন ১৩ জন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিওএর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবীর।
বিওএর তিন উপমহাসচিবের মধ্যে এমএ কুদ্দুস ও আমজাদ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। এখনো দায়িত্বে রয়েছেন মাহবুবর রহমান শাহীন। পাঁচ সহসভাপতির মধ্যে পদ ছেড়েছেন দুজন-মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী ও বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী শুক্লা।
নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন সালাহউদ্দিন আহম্মেদ, মাকসুদ আলম, হাবিবুর রহমান, ফারহাদ জেসমিন লিটি, হাবিবুর রহমান জামিল ও আব্দুল্লাহ হেল বাকী। তাদের মধ্যে লিটি পদত্যাগের কারণ হিসেবে মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহসভাপতি ইমরোজের অতিরিক্ত কর্তৃত্ববাদের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন।
এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাজী নজরুল ইসলাম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেলিম ফকির এবং সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল হুমায়ুন কবিরও পদত্যাগপত্র দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিওএর নির্বাহী কমিটির মেয়াদ চার বছর। ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বর্তমান কমিটি। কিন্তু এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ১৩ জনের পদত্যাগ কমিটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
শুরু থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছে বিওএর বর্তমান কমিটি। বিশেষ করে মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাঁরা সার্চ কমিটির সদস্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সার্চ কমিটিতে থাকার পর তাঁরা নিজেরাই বিভিন্ন ফেডারেশনের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন এবং সেখান থেকে কাউন্সিলর হয়ে অনেকটা বিনা বাধায় বিওএর নির্বাহী কমিটিতে জায়গা করে নেন।
সে সময় স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি তুলে ধরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বিওএর নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই আপত্তিতে সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।