নারী টেনিসের ট্যুরে খেলতে দিতে হবে জেনেটিক লিঙ্গ পরীক্ষা!

পেশাদার নারী টেনিসের সর্বোচ্চ সংস্থা উইমেন্স টেনিস অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউটিএ) ট্যুরে অংশ নিতে সব খেলোয়াড়ের জন্য জেনেটিক লিঙ্গ পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া সংস্থাটির নতুন নারী খেলোয়াড়দের যোগ্যতা নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক খেলোয়াড়কে গালের ভেতর থেকে সোয়াব, রক্ত অথবা লালার নমুনা দিতে হবে। খবর বিবিসির।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব নমুনা পরীক্ষা করে এসআরওয়াই জিনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হবে। ওয়াই ক্রোমোজোমের এই জিনটি পুরুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিকাশে ভূমিকা রাখে।

ডব্লিউটিএ জানিয়েছে, একজন খেলোয়াড়কে জীবনে মাত্র একবার এই পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষায় এসআরওয়াই জিনের উপস্থিতি না থাকলেই তিনি ডব্লিউটিএ ট্যুরে খেলার অনুমতি পাবেন। তবে এই জিনের উপস্থিতি ধরা পড়লে তাকে আরও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরপরই তার খেলার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে।

নতুন নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানালে খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে খেলোয়াড়দের একটি সম্মতিপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে।

এর আগে ২০২৪ সালে হালনাগাদ করা ডব্লিউটিএর নীতিমালায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের খেলার সুযোগ ছিল। সে ক্ষেত্রে টানা দুই বছর টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি লিটারে ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোলের নিচে রাখতে হতো। তবে বর্তমানে ডব্লিউটিএ ট্যুরে কোনও ট্রান্সজেন্ডার নারী খেলোয়াড় খেলছেন বলে জানা যায়নি।

এক বিবৃতিতে ডব্লিউটিএ বলেছে, নারী টেনিসে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সব খেলোয়াড়ের জন্য ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ১৯৭৫ সালে নারী খেলোয়াড়দের যোগ্যতা নীতিমালা চালুর পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি বিভিন্ন সময় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

ডব্লিউটিএর ভাষ্য, সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা এবং নারী ক্রীড়াঙ্গনের পরিবর্তিত মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সাল থেকে জৈবিক লিঙ্গের ভিত্তিতে নতুন যোগ্যতা নীতিমালা অনুমোদন করেছে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ।

এ বিষয়ে ডব্লিউটিএ আরও বলেছে, এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল বিষয়। তাই সব খেলোয়াড়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে সম্মানজনক ও দায়িত্বশীলভাবে নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে।

ডব্লিউটিএর এই সিদ্ধান্তের আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে নারী বিভাগে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে একবারের জেনেটিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস। একই বছরের মে মাসে নারী বিভাগে অংশ নিতে সব বক্সারের জন্য বাধ্যতামূলক লিঙ্গ পরীক্ষা চালু করে ওয়ার্ল্ড বক্সিং।