করোনা: শিল্প বাঁচাতে সরকারের সহযোগিতা চায় তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনগুলো

তথ্য প্রযুক্তি খাত







করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটকালে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রয়েছে। আয় না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের কর্মীদের বেতন দিতে পারবে না, কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। অন্যদিকে ব্যবসা না থাকায় বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে যেতে পারে। এসব সমস্যা যাতে এড়ানো যায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আগের মতো সচল থাকে সেজন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুদান ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

মোবাইলফোন উৎপাদক ও আমদানিকারকদের সংগঠন বিএমপিআইএ: বাংলাদেশ মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বিএমপিআইএ বলেছে, দেশে ৯টা মোবাইল তৈরির কারখানা চালু ছিল। করোনা ভাইরাস সংকটের ফলে সব কারখানা এখন বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, সব বন্ধ থাকায় উৎপাদিত ও আমদানি করা মোবাইল বিক্রিও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে কোনও আয়ও নেই। এছাড়া প্রতিদিনই বাড়ছে উদ্যোক্তাদের দায় দেনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে যেখান থেকে উত্তোরণ অনেক কঠিন। এ অবস্থায় সংগঠনটি শ্রমিক কর্মীদের বেতন ভাতা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ-৫ থেকে অনুরূপ সহযোগিতা, প্যাকেজ-১ থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ফান্ড থেকে সহজ শর্তে ঋণ চেয়েছে যা উদ্যোক্তারা পরবর্তী ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করবেন।এছাড়াও বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর আগামী ৬ মাসের ইউটিলিটি বিল মওকুফের আবেদন জানিয়েছে।

স্টার্টআপদের বাঁচাতে ভিসিপিয়াব’র প্রস্তাবনা: স্থানীয় বাজারে বিক্রি ও সেবা গ্রহণ বন্ধ থাকায় দেশের ৩০০ স্টার্টআপের প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই স্টার্টআপগুলোতে প্রত্যক্ষভাবে কর্মরত প্রায় দেড় লাখ কর্মীর চাকরি হুমকির সম্মুখীন। অনেক স্টার্টআপের রফতানি আয় অন্তত ৮০ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইক্যুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ভিসিপিয়াব) একটি জরুরি সভার আয়োজন করে ভিসিপিয়াব’র সদস্য ও পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলো রক্ষায় ৬টি প্রস্তাব দিয়েছে সরকারকে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ৬ মাস কর্মীদের বেতনের একটি অংশ, আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন স্টার্টআপগুলোর অফিস ভাড়া সরকারি অনুদান হিসেবে দেওয়া। সরকারি কাজে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ভিসিপিয়াব’র সদস্য ও পোর্টফোলিও কোম্পানিগুলোর জন্য ২ শতাংশ জামানতবিহীন ঋণ প্রদান ইত্যাদি।
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি: করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সংকটকালে ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা অব্যাহত রাখতে ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণে আর্থিক অনুদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে আইএসপিএবি। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি দেশে ইন্টারনেট সেবা চালু রাখতে ৬১০ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছে।
সম্প্রতি পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের এই সময়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে মাঠ পর্যায়ে আমাদের ফাইবার ও নেটওয়ার্ক টিম কাজ করছে। সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশ আজ কোয়ারেন্টিন অবস্থায় আছে। কিন্তু বন্ধ হয়নি ইন্টারনেট সেবা। ফলে বাসায় বসেই প্রায় সবাই অনলাইনে কাজ করছেন। এর পেছনের চালিকা শক্তি হিসেবে আইএসপিগুলো কাজ করে যাচ্ছে। এ কারণে তাদের সরকারি সহযোগিতা পাওয়া ন্যায্য দাবি।