ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা কাজের ফাইল হারিয়ে যাওয়ার ভয় অনেকেরই থাকে। ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়া, কম্পিউটারের হার্ডডিস্কে সমস্যা কিংবা হঠাৎ ফাইল মুছে যাওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। এ কারণে এখন অনেকেই বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ব্যবহার করেন। তবে আলাদা কোনো সেবা ব্যবহার না করেও টেলিগ্রামকে ব্যক্তিগত ফাইল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যায়।
টেলিগ্রাম মূলত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হলেও এর ক্লাউডভিত্তিক ব্যবস্থার কারণে ব্যবহারকারীরা নিজেদের পাঠানো বার্তা, ছবি, ভিডিও ও বিভিন্ন ধরনের ফাইল একাধিক ডিভাইস থেকে দেখতে পারেন। ফলে ব্যক্তিগত ফাইলের একটি সহজ অনলাইন ভান্ডার হিসেবেও এটি কাজে লাগানো সম্ভব।
নিজের জন্য ফাইলের ভাণ্ডার তৈরি করবেন যেভাবে
টেলিগ্রামে ফাইল সংরক্ষণের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেভড মেসেজেস ব্যবহার করা। এটি মূলত নিজের কাছেই বার্তা, ছবি, ভিডিও, লিংক কিংবা ফাইল পাঠিয়ে রাখার একটি সুবিধা। গুরুত্বপূর্ণ কোনো ছবি বা নথি সংরক্ষণ করতে চাইলে সেটি নিজের সেভড মেসেজেসে পাঠিয়ে রাখতে পারেন। পরে একই অ্যাকাউন্টে অন্য ফোন, ট্যাবলেট বা কম্পিউটার থেকে প্রবেশ করলেও সেই ফাইল খুঁজে পাওয়া যাবে।
এভাবে টেলিগ্রামকে ব্যক্তিগত ডিজিটাল নোটবুক বা ফাইল ভান্ডার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
আলাদা আলাদা ফাইল গুছিয়ে রাখবেন যেভাবে
যাদের নিয়মিত অনেক ফাইল সংরক্ষণ করতে হয়, তারা বিষয়ভিত্তিকভাবে আলাদা ব্যক্তিগত চ্যানেল তৈরি করতে পারেন।
যেমন- ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, কাজের ফাইল, পড়াশোনার উপকরণ, ভিডিও, অডিও ,দরকারি লিংক।
প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত চ্যানেল তৈরি করলে পরে নির্দিষ্ট ফাইল খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
তবে চ্যানেলকে ব্যক্তিগত রাখার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। অন্য কাউকে চ্যানেলের প্রবেশাধিকার দিলে সেখানে রাখা ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে।
ফোন থেকে কম্পিউটারে ফাইল নেওয়া সহজ
টেলিগ্রামকে ফাইল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করার আরেকটি সুবিধা হলো একাধিক ডিভাইস থেকে ফাইল পাওয়া যায়।
ধরুন, মোবাইল ফোনে থাকা একটি ছবি বা নথি কম্পিউটারে নিতে চান। সেটি টেলিগ্রামে নিজের কাছে পাঠিয়ে রাখলে পরে কম্পিউটারে টেলিগ্রাম খুলে একই ফাইল দেখা বা সংরক্ষণ করা সম্ভব। এতে বারবার তারের মাধ্যমে ফাইল স্থানান্তর করার প্রয়োজন হয় না।
গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন
টেলিগ্রামকে ব্যক্তিগত ফাইল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা গেলেও এটিকে একমাত্র ব্যাকআপ ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
কারণ অনলাইনে থাকা কোনো সেবাকেই শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সমস্যা হলে বা ব্যবহারকারী নিজেই কোনো ফাইল মুছে ফেললে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সব সময় নাও থাকতে পারে।
তাই জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ, জমির কাগজ, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংক্রান্ত নথি কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান তথ্যের ক্ষেত্রে অন্তত আরও একটি আলাদা ব্যাকআপ রাখা ভালো।
গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ
টেলিগ্রামে সাধারণ বার্তা ও গোপন চ্যাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এক নয়। তাই খুব সংবেদনশীল তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বিষয়টি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
এ ছাড়া টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই ধাপের যাচাই ব্যবস্থা চালু করা উচিত। ফোন হারিয়ে গেলে বা অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়তি সুরক্ষা দিতে পারে।
বড় ফাইল রাখার আগে যা জানা দরকার
টেলিগ্রামে ফাইল পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আকারের সীমা রয়েছে। তাই বড় ভিডিও বা বিশাল আকারের ফাইল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে আগে টেলিগ্রামের বর্তমান ফাইল সীমা এবং আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা সুবিধাগুলো দেখে নেওয়া ভালো।
বিনামূল্যের অ্যাকাউন্ট ও অর্থের বিনিময়ে নেওয়া অ্যাকাউন্টের কিছু সুবিধার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে নিয়মিত বড় ফাইল নিয়ে কাজ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধাগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
কারা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন?
শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ফ্রিল্যান্সার, উদ্যোক্তা কিংবা নিয়মিত একাধিক ডিভাইসে কাজ করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে যারা মোবাইল ও কম্পিউটার দুটিতেই কাজ করেন, তাদের জন্য একই জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ছবি, নথি ও কাজের ফাইল রাখার সুবিধা সময় বাঁচাতে পারে।
তবে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ফাইলের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাকে সব সময় অগ্রাধিকার দিতে হবে।
শেষ কথা
আলাদা কোনো ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ব্যবহার না করেও টেলিগ্রামের বিভিন্ন সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, নথি ও অন্যান্য ফাইল গুছিয়ে রাখা সম্ভব। তবে এটিকে একমাত্র ব্যাকআপ ব্যবস্থা না বানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের আরও একটি আলাদা কপি রাখা নিরাপদ। একই সঙ্গে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, দুই ধাপের যাচাই এবং ব্যক্তিগত চ্যানেলের গোপনীয়তা নিশ্চিত করলে টেলিগ্রাম দৈনন্দিন ফাইল ব্যবস্থাপনার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।