অনলাইনে গোপনীয়তা নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো— ইনকগনিটো মোড বা প্রাইভেট বাউজিং চালু করলেই ব্যবহারকারীর সকল অনলাইন কার্যক্রম সম্পূর্ণ গোপন হয়ে যায়। বাস্তবে, ব্রাউজিং প্রাইভেসি দেয়া এই ফিচারগুলো ব্রাউজার ব্যবহারকালীন সক্রিয় থাকলে ব্রাউজিং ইতিহাস, ওয়েবসাইটের কুকিজ কিংবা ডেটা কম্পিউটারের লোকাল স্টোরেজে সংরক্ষণ করে না। ব্যবহারকারীকে ইন্টারনেটে অজ্ঞাত বা অ্যানোনিমাস করে তোলা প্রাইভেট ব্রাউজিং এর কাজ নয়। ইনকগনিটো মোডের প্রকৃত সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বুঝতে হলে এর কয়েকটি প্রচলিত ধারণা এবং বাস্তবতা সম্পর্কে জানা জরুরি।
শুধুমাত্র ব্রাউজারের লোকাল ডেটা সংরক্ষণ সীমিত করে
ইনকগনিটো মোডে ব্রাউজিং সেশন শেষ হলে ব্রাউজিং ইতিহাস, কুকিজ, ক্যাশ ফাইল, সাইট ডেটাসহ অধিকাংশ ফর্ম ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। প্রতিটি ইনকগনিটো উইন্ডো একটি পৃথক সেশন হিসেবে বিবেচিত হয়, ফলে সাধারণ ব্রাউজিংয়ের কুকি বা অন্য যেকোনো তথ্য ব্যবহার হয় না। তবে ডাউনলোড করা ফাইল, সংরক্ষিত বুকমার্ক এবং ব্যবহারকারী নিজে সংরক্ষণ করা তথ্য ডিভাইসেই থেকে যায়।
আইপি অ্যাড্রেস গোপন থাকে না
প্রাইভেট ব্রাউজিং সেশন চলাকালীন পাবলিক আইপি অ্যাড্রেস, ডিএনএস কুয়েরি কিংবা ইন্টারনেট ট্রাফিক কখনো পরিবর্তিত হয় না। ফলে ইন্টারনেট সেবাদাতা, অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক প্রশাসক এবং ভিজিট করা ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং সেশনের সকল তথ্য ও কার্যকলাপ দেখতে পারে। অর্থাৎ, এটি ভিপিএন, প্রক্সি সার্ভার বা টর নেটওয়ার্কের বিকল্প নয়।
ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ট্র্যাকিং বন্ধ করতে পারে না
অনেকেই মনে করেন, ইনকগনিটো মোড বিজ্ঞাপনদাতা বা ওয়েবসাইটের ট্র্যাকিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। বাস্তবে ব্রাউজার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রাউজারের সংস্করণ, অপারেটিং সিস্টেম, স্ক্রিন রেজোলিউশন, ভাষা, টাইম জোন, ওয়েবজিএল, ক্যানভাস রেন্ডারিং এবং ইনস্টল করা ফন্টের মতো তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর একটি স্বতন্ত্র ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। ফলে কুকি না থাকলেও ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা অসম্ভব নয় এবং এক্ষেত্রে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
অনলাইন অ্যাকাউন্টে লগইন করলে গোপনীয়তা থাকে না
ইনকগনিটো মোডে গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুক বা অন্য কোনো অনলাইন অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করলে সেই সেবাদাতা অথেনটিকেশন টোকেন, সেশন কুকি এবং সার্ভার-সাইড লগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। ফলে ইনকগনিটো মোড লগইন-নির্ভর ডেটা সংগ্রহ বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিশ্লেষণও অব্যাহত রাখে।
ম্যালওয়্যার, ফিশিং ও নেটওয়ার্ক নজরদারি থেকে সুরক্ষা দেয় না
ইনকগনিটো মোড কোনো নিরাপত্তা ফিচার নয়। তাই এটি ম্যালওয়্যার, ফিশিং ওয়েবসাইট, ক্ষতিকর ডাউনলোড বা প্রতারণামূলক লিংক থেকে ব্যবহারকারীকে সুরক্ষা দেয় না। একইভাবে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত ফায়ারওয়াল, ওয়েব ফিল্টার, মনিটরিং সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক লগইনের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
ইনকগনিটো মোড কখন কার্যকর?
ইনকগনিটো মোডের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি শেয়ার্ড কম্পিউটারে লগইন তথ্য বা ব্রাউজিং ইতিহাস সংরক্ষণ করেনা। এছাড়া ওয়েব ডেভেলপাররা কুকিজের প্রভাব ছাড়া একটি ওয়েবসাইট নতুন করে প্রথমবার ভিজিটের মতো ব্যবহার করতে এটি ব্যবহার করেন। এছাড়াও কিছু ওয়েবসাইটে ‘মিটার্ড পেওয়াল’ কুকির মাধ্যমে বিনামূল্যে সীমিত অ্যাক্সেসের সীমা নির্ধারণ করে থাকে। নতুন ইনকগনিটো সেশন শুরু হলে সেই পুরাতন কুকি সংরক্ষিত না থাকায় সীমিত সংখ্যক নিবন্ধ আবারও পড়া সম্ভব হয়। পাশাপাশি পূর্বের সার্চ ইতিহাস ও কুকির প্রভাব ছাড়া তুলনামূলক নিরপেক্ষ সার্চ ফলাফল পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর।








