চার্জার খালি পড়ে থাকলেও কি বিদ্যুৎ খরচ হয়

স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার পর অনেকেই চার্জারটি সকেটেই লাগানো রেখে দেন। এতে পরবর্তী সময়ে সহজেই ফোন চার্জ দেওয়া যায়। তবে ফোন সংযুক্ত না থাকা অবস্থায়ও চার্জারটি বিদ্যুৎ খরচ করে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, ‘হ্যাঁ’। সকেটে লাগানো থাকলে চার্জার সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। তবে এই খরচ খুব বেশি নয়। বিষয়টি নির্ভর করে চার্জারের ধরন, মান ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতার ওপর।

চার্জার কীভাবে বিদ্যুৎ খরচ করে

কোনো চার্জার সকেটে লাগানো থাকলে, সেটি ফোনে বিদ্যুৎ সরবরাহ না করলেও তার ভেতরের কিছু বৈদ্যুতিক উপাদান সক্রিয় থাকে। ফলে সামান্য বিদ্যুৎ খরচ হয়। এই বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণকে সাধারণত স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার বলা হয়।

চার্জারের ভেতরের ট্রান্সফরমার ও সার্কিটের কিছু অংশ সক্রিয় থাকার কারণেই ফোন সংযুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে চার্জ দেওয়ার জন্য এটি প্রস্তুত থাকে।

কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়

সাধারণভাবে একটি ফোন চার্জার ফোন সংযুক্ত না থাকা অবস্থায় প্রায় ০.১ থেকে ০.৫ ওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। অর্থাৎ, ২৪ ঘণ্টা সকেটে লাগানো থাকলে দিনে আনুমানিক ২ থেকে ১২ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।

তবে কিছু হিসাব অনুযায়ী, চার্জারের ধরন ও ব্যবহারের পরিস্থিতিভেদে দৈনিক খরচের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তাই সব চার্জারের বিদ্যুৎ খরচ এক রকম নয়।

একটি চার্জারের এই খরচ খুবই সামান্য। কিন্তু বাড়ির প্রতিটি ঘরে একাধিক ফোন, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ বা গেমিং ডিভাইসের চার্জার সবসময় সকেটে লাগানো থাকলে সম্মিলিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ বিল কি বাড়ে

হ্যাঁ, চার্জার খালি অবস্থায় বিদ্যুৎ খরচ করলে তা বিদ্যুৎ বিলেও সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একটি ভালো মানের ফোন চার্জারের ক্ষেত্রে এই খরচ সাধারণত খুব বেশি নয়।

বছরে একটি চার্জার খালি অবস্থায় কত টাকা বিদ্যুৎ খরচ করবে, তা নির্ভর করবে চার্জারের স্ট্যান্ডবাই ব্যবহারের পরিমাণ, প্রতিদিন কতক্ষণ সকেটে লাগানো থাকে এবং স্থানীয় বিদ্যুতের দরের ওপর।

তবে শুধু ফোনের চার্জার নয়, বাড়িতে থাকা ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, গেমিং কনসোলসহ অন্যান্য চার্জারও একইভাবে সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।

শুধু চার্জার নয়, আরও অনেক যন্ত্রেও হয়

চার্জার ছাড়াও বাড়ির বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার না করলেও স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার খরচ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, টেলিভিশন; কম্পিউটার; গেমিং কনসোল; মাইক্রোওয়েভ; কফি মেকার ও বিভিন্ন স্মার্ট হোম ডিভাইস।

বিদ্যুৎ খরচ কমানোর উপায়

চার্জারের স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ খরচ কমাতে কয়েকটি বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, ভালো মানের ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী চার্জার ব্যবহার করা উচিত। নিম্নমানের চার্জার অনেক সময় তুলনামূলক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। একাধিক ডিভাইস চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হলে নির্ভরযোগ্য মাল্টিপোর্ট চার্জারও ব্যবহার করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, চার্জারগুলো স্মার্ট প্লাগ বা স্মার্ট সকেটের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে প্রয়োজন না থাকলে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা সম্ভব। 

এ ছাড়া চার্জারে ক্ষয়, ঢিলা সংযোগ বা অতিরিক্ত গরম হওয়ার লক্ষণ দেখা গেলে তা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। কোনো সমস্যা থাকলে চার্জার বদলে ফেলতে হবে।

সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, ফোন চার্জ দেওয়া শেষ হলে চার্জারটি সকেট থেকে খুলে রাখা। যেখানে সুইচযুক্ত সকেট রয়েছে, সেখানে চার্জার খুলে না ফেললেও সুইচ বন্ধ করে দেওয়া যায়।

সুতরাং, ফোন চার্জ না দিলেও সকেটে লাগানো চার্জার সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করে। এতে সাধারণত বড় ধরনের বিল বাড়ে না, তবে বাড়িতে একাধিক চার্জার ও স্ট্যান্ডবাই ডিভাইস থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে চার্জার খুলে রাখা বা সংযোগ বন্ধ করা ভালো অভ্যাস।