স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড ও ব্যাংকিংয়ের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। তাই ফোনে স্পাইওয়্যার বা গুপ্তচর সফটওয়্যার ঢুকে পড়লে তা ব্যবহারকারীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব সফটওয়্যার গোপনে ফোনের তথ্য সংগ্রহ, ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহারের চেষ্টা কিংবা অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লে স্টোরের বাইরেও অ্যাপ ইনস্টল করা যায়। ফলে ভুয়া অ্যাপ, নকল আপডেট, সন্দেহজনক লিংক বা ফিশিং বার্তার মাধ্যমে স্পাইওয়্যার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তবে কিছু লক্ষণ দেখে ফোনে এর উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ফোনে স্পাইওয়্যার থাকার সম্ভাব্য লক্ষণ
ফোনে হঠাৎ অস্বাভাবিক ধীরগতি দেখা দিলে সতর্ক হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া, স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া বা মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াও স্পাইওয়্যারের সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে।
এ ছাড়া কোনো নতুন অ্যাপ ইনস্টল না করেও ফোনের স্টোরেজ কমে যাওয়া, বারবার বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন আসা, ব্রাউজার নিজে থেকেই অন্য ওয়েবসাইটে চলে যাওয়া কিংবা সন্দেহজনক খুদে বার্তা পাওয়ার বিষয়গুলোও নজরে রাখতে হবে।
ফোনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ দেখা গেলে অথবা কোনো অ্যাপ হঠাৎ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, অবস্থান বা খুদে বার্তার অনুমতি চাইলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব লক্ষণ একা স্পাইওয়্যার থাকার নিশ্চিত প্রমাণ নয়। একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা ভালো।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে স্পাইওয়্যার দূর করার উপায়
গুগল প্লে প্রোটেক্ট দিয়ে স্ক্যান করুন
প্রথমে গুগল প্লে স্টোর খুলে প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করতে হবে। এরপর ‘প্লে প্রোটেক্ট’ নির্বাচন করে ‘স্ক্যান’ অপশনে চাপ দিতে হবে। এই সেবা ফোনে থাকা অ্যাপগুলো পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার শনাক্ত করতে পারে।
বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন
প্রয়োজনে বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস অ্যাপ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিটডিফেন্ডার মোবাইল সিকিউরিটি ও ম্যালওয়্যারবাইটসের মতো অ্যাপ ফোনে থাকা ক্ষতিকর সফটওয়্যার শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অনুমতি পরীক্ষা করুন
ফোনের সেটিংস থেকে ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রাইভেসি’ বিভাগে গিয়ে ‘ডিভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর’ অপশন খুঁজে দেখতে হবে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো অ্যাপকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া থাকলে তা বাতিল করতে হবে।
সেফ মোড ব্যবহার করুন
সন্দেহজনক অ্যাপ মুছে ফেলা না গেলে ফোন সেফ মোডে চালু করা যেতে পারে। সাধারণত পাওয়ার বোতাম চেপে ধরে ‘পাওয়ার অফ’ অপশনে কিছুক্ষণ চাপ দিলে সেফ মোড চালুর সুযোগ আসে। এ অবস্থায় তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। ফলে ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত ও মুছে ফেলা সহজ হয়।
ফ্যাক্টরি রিসেট করুন
সব চেষ্টা করেও স্পাইওয়্যার দূর না হলে শেষ উপায় হিসেবে ফ্যাক্টরি রিসেট করা যেতে পারে। তবে এতে ফোনের সব তথ্য মুছে যেতে পারে। তাই আগে প্রয়োজনীয় ছবি, নথি ও অন্যান্য তথ্যের ব্যাকআপ নিতে হবে।
স্পাইওয়্যার থেকে নিরাপদ থাকার উপায়
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপ ইনস্টলের জন্য সম্ভব হলে শুধু গুগল প্লে স্টোর ব্যবহার করা উচিত। কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের আগে ডেভেলপারের পরিচয়, ব্যবহারকারীর পর্যালোচনা, ডেটা সেফটি তথ্য এবং অ্যাপটি কী ধরনের অনুমতি চাইছে, তা যাচাই করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি পিডিএফ পড়ার অ্যাপের অপ্রয়োজনীয়ভাবে অবস্থান বা খুদে বার্তার অনুমতি চাওয়ার কথা নয়। ফোনের সেটিংস থেকে অজানা উৎসের অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি বন্ধ রাখা উচিত।
এ ছাড়া নিয়মিত ইনস্টল করা অ্যাপের তালিকা পরীক্ষা করে অপরিচিত বা অব্যবহৃত অ্যাপ মুছে ফেলতে হবে। অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট প্রকাশের পর দ্রুত ইনস্টল করা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার এবং দুই স্তরের নিরাপত্তা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখাও জরুরি।
সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা এবং অপরিচিত ফাইল বা অ্যাপ ডাউনলোড না করার অভ্যাস থাকলে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে স্পাইওয়্যারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।