ইন্টারনেটে যেকোনো তথ্য খুঁজতে অধিকাংশ ব্যবহারকারীদের আস্থার জায়গা গুগল। তবে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন বলেই সার্চ ফলাফলে দেখানো প্রতিটি ওয়েবসাইট বা তথ্য যে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে, এমনটি নয়। সাইবার অপরাধীরা গুগলের সার্চ ইঞ্জিনকে কাজে লাগিয়েই ভুয়া ওয়েবসাইট, প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন ও ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রতিনিয়ত ফাঁদে ফেলছে। আবার কিছু বিষয়ে সার্চ করে ব্যবহারকারী নিজের ক্ষতি নিজেই ডেকে আনেন। তাই গুগলে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় খোঁজার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
গ্রাহকসেবা নম্বর
ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, বিমান সংস্থা বা কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা নম্বরের প্রয়োজন হলে সরাসরি গুগলে খোঁজা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রতারকেরা ভুয়া ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক তালিকায় প্রতিষ্ঠানের নামে নকল নম্বর দিতে পারে। সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে ব্যাংক হিসাব, কার্ডের তথ্য, এককালীন পাসওয়ার্ড বা ওটিপির মতো গোপন তথ্য চাওয়া হতে পারে এবং সেই ফাঁদে পড়ে অনেকে তা দিয়েও দেয়। তাই নম্বরের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করাই নিরাপদ।
ক্র্যাকড সফটওয়্যার ও অ্যাপ
বিনা মূল্যে দামি সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহারের আশায় ‘ক্র্যাকড’ কিংবা ‘মডেড’ সংস্করণ খুঁজলে বিপদ হতে পারে। এসব ফাইলের সঙ্গে ম্যালওয়্যার, র্যানসমওয়্যার কিংবা ভাইরাস যুক্ত থাকতে পারে। ইনস্টল করার পর এগুলো ব্যক্তিগত ছবি, পাসওয়ার্ড বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি বা এনক্রিপ্ট করতে পারে। তাই সফটওয়্যার ও অ্যাপের ক্ষেত্রে নির্মাতার ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা উচিত।
রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা
অসুস্থ হলে লক্ষণ লিখে গুগলে খোঁজা সাধারণ অভ্যাস হলেও শুধু সার্চ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ গ্রহণ করা বিপজ্জনক। অনলাইনে পাওয়া তথ্য অসম্পূর্ণ বা ব্যক্তির নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। এতে ভুল চিকিৎসা, অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তা কিংবা চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
দ্রুত ধনী হওয়ার উপায়
‘এক দিনে কোটিপতি’, ‘টাকা দ্বিগুণ’ বা নিশ্চিত উচ্চ মুনাফার মতো বিষয় খুঁজলে প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রতারকেরা দ্রুত ধনী হওয়ার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগ, অগ্রিম অর্থ প্রদান বা ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে থাকে। কোনো বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক সেবার বৈধতা যাচাই করা জরুরি।
ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ই-মেইল পাসওয়ার্ড বা অন্য কোনো গোপন তথ্য গুগলের সার্চ বক্সে লেখা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ধরনের তথ্য ভুল ওয়েবসাইটে চলে গেলে পরিচয় চুরি বা প্রতারণার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিগত তথ্য কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাচাই করা নিরাপদ ওয়েবসাইটেই দেওয়া নিরাপদ।









