এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চিপের চাহিদা বাড়ায় প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক পেরিয়েছে মার্কিন চিপ নির্মাতা অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি)। সোমবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর এ মাইলফলক স্পর্শ করে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার এএমডির শেয়ারের দাম ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬১৩ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়ায়। এ বছর এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে ১৮৫ শতাংশ। এর ফলে এএমডি যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ চিপ নির্মাতা হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করলো।
এর আগে এই মাইলফলক অর্জন করেছে এনভিডিয়া, ব্রডকম ও মাইক্রন। এনভিডিয়া ২০২৩ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য অতিক্রম করে। বর্তমানে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাজারমূল্য নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি এনভিডিয়া।
সোমবার বেশিরভাগ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বড় উত্থান দেখা গেছে। এএমডির প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টেলের শেয়ারের দাম প্রায় ১১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং কোয়ালকমের শেয়ার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। চিপ খাতের সামগ্রিক সূচক ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইনডেক্সও ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক গ্রেট হিল ক্যাপিটাল এলএলসির চেয়ারম্যান থমাস হেইস বলেন, ‘অর্থ আবার এআই খাতে ফিরছে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাইপারস্কেলার প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এআই খাতে ব্যয় নিয়ে বাজারে নানা প্রশ্ন ওঠায় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা কমেছিল। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার আশঙ্কাও চাপ তৈরি করেছিল।
তবে হেইসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে এলেও এআই খাতই কাজ করার মতো একমাত্র ক্ষেত্র বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন। এএমডি তারই একটি উদাহরণ।
এএমডি এখন শুধু আলাদা চিপ বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এনভিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে প্রতিষ্ঠানটি এআই পণ্যের বাজারে দ্রুত নতুন পণ্য আনছে এবং প্রসেসর, নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম ও অন্যান্য হার্ডওয়্যার মিলিয়ে সম্পূর্ণ সিস্টেমও সরবরাহ করছে।
সার্ভারে এআইয়ের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ বা ‘ইনফারেন্স’-এর কাজে গ্রাফিকস প্রসেসরের পাশাপাশি ব্যবহৃত সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের চাহিদা বাড়ায় এএমডি ইন্টেলের কাছ থেকেও বাজারের অংশীদারত্ব নিয়েছে।
গত মাসে এএমডি চলতি প্রান্তিকের আয় ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছিল। তবে সেই পূর্বাভাস বিনিয়োগকারীদের উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
এরপরও ২০২৬ সালে এএমডির শেয়ারের দাম ১৮৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে এএমডি এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের শীর্ষ পারফরমারদের একটি হয়ে উঠেছে।
এএমডির শেয়ার সর্বশেষ ১২ মাসের প্রত্যাশিত আয়ের প্রায় ৪১ গুণ দামে লেনদেন হয়েছে। গত ১০ বছরের গড় হিসাবে এই অনুপাত ৪৪ গুণ। অন্যদিকে, এনভিডিয়ার শেয়ার সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যাশিত আয়ের ১৬ দশমিক ৩ গুণ দামে লেনদেন হয়েছে।