রেকর্ড পরিমাণ কম জন্মহারের কারণে সৃষ্ট জনসংখ্যা সংকটের মধ্যে সিঙ্গাপুর সরকার দেশটির সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য একটি নতুন ডেটিং অ্যাপ চালু করেছে। সরকারি কর্মীদের একে অপরের সঙ্গে মিশতে এবং সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করার উদ্যোগ হিসেবে এই অ্যাপটি আনা হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ‘ফার্স্ট ডেট’নামের এই অ্যাপটি বর্তমানে কেবল সিঙ্গাপুরের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যই উন্মুক্ত। অ্যাপটিতে ব্যবহারকারীদের তাদের পছন্দ ও মূল্যবোধ সম্পর্কিত বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এরপর একটি নোবেলজয়ী অ্যালগরিদম এই ডেটা ব্যবহার করে একবারে একটি করে উপযুক্ত জুটি বা ম্যাচ তৈরি করে।
২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের জন্য সীমিত এই অ্যাপটি সোয়াইপ করার ক্লান্তি বা ‘সোয়াইপ ফ্যাটিগ’ দূর করে ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি অর্থপূর্ণ সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করবে বলে জানানো হয়েছে। অ্যাপটির ওয়েবসাইটে এর পেছনে কাজ করা গেইল-শ্যাপলে স্টেবল ম্যারিজ অ্যালগরিদমটির কথা তুলে ধরা হয়েছে। কোনও জুটি ম্যাচ হওয়ার পর তাদের ডেট বা সাক্ষাৎ গ্রহণের জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়। এছাড়া বরফ গলানোর বা ভাব জমানোর উপায় হিসেবে অ্যাপটিতে ‘ডেট কোয়েস্ট’ নামের বিভিন্ন আইডিয়াও দেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের ২৯ বছর বয়সি এক কর্মী এলিজাবেথ জানান, অন্য অ্যাপগুলোর মতো এখানে মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা খুব একটা আলাদা নয়। তবে এখানে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি যে অনেক কম, তা জেনে ভালো লাগছে। সবাই সরকারি চাকরিজীবী এবং একটি জীবনসঙ্গী খুঁজছেন।
সিঙ্গাপুরের ডেমোগ্রাফিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ম্যাচমেকার বা ঘটকালির এটিই প্রথম চেষ্টা নয়। এর আগে ১৯৮৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জুটি বাঁধতে উৎসাহিত করতে 'সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউনিট' নামে একটি ম্যাচমেকিং এজেন্সি চালু করেছিল সরকার।
বর্তমানে সিঙ্গাপুর তার কমতে থাকা জনসংখ্যা নিয়ে এক চরম অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে ৩০ হাজারের কম শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নারীপ্রতি মোট জন্মহার বা টিএফআর নেমে এসেছে শূন্য দশমিক ৮৭-তে, যা একটি স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ এর চেয়ে অনেক কম। অন্যদিকে দেশটিতে মৃত্যুর হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ জনে দাঁড়িয়েছে।