গুগলের বর্ষসেরা ইমোজি কোনটি, দেখুন জনপ্রিয় দশটির তালিকা

বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইমোজির নাম ঘোষণা করেছে গুগল। প্রথম স্থান পেয়েছে উচ্চস্বরে কান্নারত মুখ। এটি আগের শীর্ষ ইমোজি আনন্দাশ্রুসহ মুখ এবং হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি ইমুজিকে ছাড়িয়ে গেছে।

গুগল জানিয়েছে, উচ্চস্বরে কান্নারত মুখ ইমোজি শুধু প্রকৃত দুঃখ প্রকাশে ব্যবহৃত হয় না। মেসেজিংয়ে এই প্রতীক দিয়ে হাসি, তীব্র বিস্ময়, বিব্রত ভাব, আনন্দ কিংবা আবেগে অভিভূত হয়ে পড়ার অনুভূতিও বোঝানো হয়। গুগলের গবেষকেরা এর জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণ হিসেবে জেন-জির অভ্যাসের কথা বলছেন। গত এক বছরে এর ব্যবহার ৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

কিশোর ও জেন-জি প্রজন্ম ক্রমেই আনন্দাশ্রুসহ মুখ ও হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি ইমোজি থেকে সরে আসছে, কারণ তারা এগুলোকে খুব গতানুগতিক মনে করে। গবেষকেরা পছন্দের এই পরিবর্তনকে তরুণদের পুরোনো ইমোজির অর্থ নতুন করে ভাবার সঙ্গে যুক্ত করছেন। বয়স্ক প্রজন্ম এখনও এসব প্রতীককে আন্তরিক হাসি প্রকাশের স্পষ্ট উপায় হিসেবে দেখে। তরুণ ব্যবহারকারীরা বেছে নিচ্ছে আরও নাটকীয় বা উদ্ভট বিকল্প।

সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা ইমোজি মুরঝে যাওয়া ফুল। এক বছরে এর ব্যবহার ১৯০ শতাংশ বেড়ে ৯৩তম স্থানে উঠে এসেছে। সাধারণত দুঃখ, হতাশা বা ভেঙে পড়ার অনুভূতি বোঝাতে এটি পাঠানো হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোয়াই ইমোজির জনপ্রিয়তা আরও নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। যেমন ২০২১ সালে এটি ছিল ৪৮২তম স্থানে, আর ২০২৫ সালে উঠে এসেছে ৩৩তম স্থানে। তরুণেরা একে নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার করে। এর মাধ্যমে তারা পূর্ণ সংযম, সামান্য উদাসীনতা কিংবা উদ্ভট পরিস্থিতিতে পাথুরে মুখ ধরে রাখার ভাব বোঝায়।

জনপ্রিয় ইমোজির তালিকায় আর যা যা

গুগলের তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০ ইমোজির শীর্ষে রয়েছে উচ্চস্বরে কান্নারত মুখ। দ্বিতীয় স্থানে হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি, আর তৃতীয় স্থানে আনন্দাশ্রুসহ মুখ। চতুর্থ স্থানে আছে লাল হার্ট। এরপর পঞ্চম স্থানে জোড় করা হাত, ষষ্ঠ স্থানে চুমু ছুড়ে দেওয়া মুখ এবং সপ্তম স্থানে হৃদয়ে ঘেরা হাসিমুখ। তালিকার শেষ তিনটি স্থানে রয়েছে যথাক্রমে থাম্বস আপ, হৃদয়-চোখের হাসিমুখ এবং হাসিমাখা চোখে উজ্জ্বল মুখ।

ইমোজির জায়গায় দখল করছে স্টিকার

এদিকে অনলাইন যোগাযোগের একমাত্র ভাষা এখন আর ইমোজি নয়। ব্যবহারকারীরা ক্রমেই স্টিকার ও জিআইএফ বেছে নিচ্ছেন, যাতে আরও নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। যেমন একটি ইমোটিকনের বদলে কোনও টিভি সিরিজের পরিচিত ক্লিপ পাঠানো যায়। ব্যঙ্গ, অবিশ্বাস কিংবা ধাক্কা বোঝাতে অনেক সময় একটি ছবিই যথেষ্ট। বিশেষ জনপ্রিয় ডেক্সটার সিরিজের সার্জেন্ট ডোকস। কিছু সন্দেহ করলে বা সত্য জানলেও তা প্রমাণ করতে না পারলে এই স্টিকার কাজে আসে।

আরেকটি ঘন ঘন বেছে নেওয়া পছন্দ ছোট্ট রোহি, অনলাইনে যাকে হোয়াটসঅ্যাপের স্টিকার ও মিমের রানি বলা হয়।

গুগল জানায়, ইমোজির মাধ্যমে মানুষের যোগাযোগের ধরনও বদলাচ্ছে। পরিচিত প্রতীকগুলো নতুন অর্থ পাচ্ছে, আর পুরোনোগুলো ধীরে ধীরে জায়গা ছেড়ে দিচ্ছে আধুনিক ইন্টারনেট সংস্কৃতির সঙ্গে বেশি মানানসই প্রতীকের কাছে।

সূত্র: টেংরি নিউজ